প্রকাশিত : মঙ্গলবার , ২১ জুলাই ২০২৬ , রাত ০৯:৩৩।। প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার , ২৬ জুলাই ২০২৬ , ভোর ০৪:২২

জামায়াত এমপির অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল: প্রথমে এআই দাবি, পরে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’, সর্বশেষ জিম্মি করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ


স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় শুরুতে ভিডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হলেও পরে ভিডিওতে থাকা নারীকে তার 'দ্বিতীয় স্ত্রী' বলে দাবি করা হয়। পরবর্তীতে ভিডিওটি জোরপূর্বক জিম্মি করে ধারণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে ভিডিওটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিওর বিভিন্ন অংশে দেখা যায়, একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে অবস্থান করছেন গাজী নজরুল ইসলাম। কিছু দৃশ্যে তাকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে এবং অন্য কিছু দৃশ্যে ওই নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়।

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রথমদিকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল থেকে দাবি করা হয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি একটি ভুয়া ভিডিও। তবে পরবর্তীতে একাধিক ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানের অনুসন্ধানে দাবি করা হয়, ভিডিওটিতে এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদনার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি এবং এটি আসল ভিডিও।

সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানে আরও উল্লেখ করা হয়, সিসিটিভি ফুটেজের টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল। তবে ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাজী নজরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে ভাইরাল ভিডিওতে থাকা নারী গণমাধ্যমকে দাবি করেন, তিনি গাজী নজরুল ইসলামের বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী। তার ভাষ্য, "আমরা যা করেছি, বৈধভাবেই করেছি।"

অন্যদিকে গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রীও দাবি করেন, তার সম্মতিক্রমেই দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে। তিনি বলেন, "আমার স্বামী আমার অনুমতি নিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তার সম্মান নিয়ে টানাহেঁচড়া করা হচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং মানহানির মামলা করব।"

এদিকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, "ভিডিওটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এমপি আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এই বিয়ে হয়েছে। তবে ভিডিওটি কীভাবে প্রকাশ্যে এলো, সেটি আমরা খতিয়ে দেখছি।"

দ্বিতীয় বিয়েটি কবে হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে আমাদের জানানো হয়েছে, বেশ কিছুদিন আগেই বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে।"

তবে ভিডিওটি কীভাবে ফাঁস হলো, জিম্মি করে ভিডিও ধারণের অভিযোগের সত্যতা এবং এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।