প্রকাশিত : শনিবার , ২৫ জুলাই ২০২৬ , রাত ১২:৪২।। প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার , ২৬ জুলাই ২০২৬ , ভোর ০৫:১৯

বোয়ালমারীতে মা-বাবাহীন তিন এতিম মেয়ের পাশে আমিনা মামুন ফাউন্ডেশন


বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে জীবনের সবচেয়ে বড় দুটি আশ্রয় হারিয়েছে তিনটি নিষ্পাপ শিশু। প্রথমে মারা যান বাবা, আর বাবার মৃত্যুর মাত্র ১৫ দিনের মাথায় অন্যত্র চলে যান মা। এরপর থেকে দাদির স্নেহ আর চাচার সামান্য আয়ের ওপর ভর করেই কোনো রকমে বেঁচে আছে তিন বোন। তাদের এই অসহায় জীবনের খবর পেয়ে প্রবল বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ছুটে যান আমিনা মামুন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা খন্দকার আশরাফুল আলম মামুন। পরে পরিবারটির হাতে তুলে দেন ২০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা।

জানা যায়, ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বাইখীর গ্রামের বাসিন্দা মৃত এরশাদ শেখ প্রায় দুই বছর আগে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে মারা যান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটির মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়ে পরিবার। কিন্তু সেই শোক কাটার আগেই আরও বড় আঘাত নেমে আসে। বাবার মৃত্যুর মাত্র ১৫ দিনের মাথায় তিন মেয়েকে রেখে তাদের মা অন্যত্র চলে যান।

এরপর থেকেই বাবা-মায়ের স্নেহবঞ্চিত তিন মেয়ের জীবন শুরু হয় কঠিন সংগ্রামের। বড় মেয়ে সেতুর বয়স ১৩ বছর। তাকে লেখাপড়ার জন্য ঢাকায় নিয়ে গেছেন এক ফুফু। মেজ মেয়ে সাইমার বয়স ১০ বছর এবং ছোট মেয়ে ফাতেমার বয়স ৭ বছর। তারা দুজন স্থানীয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। দাদি ও চাচার অতি সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই চলছে তাদের জীবন।

পরিবারটির করুণ অবস্থার কথা জানতে পেরে আমিনা মামুন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা খন্দকার আশরাফুল আলম মামুন সরেজমিনে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন। শিশুদের ভবিষ্যৎ ও পরিবারের দুর্দশার কথা শুনে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

শিশুদের চাচা ইয়ার আলী শেখ বলেন, ভাই মারা যাওয়ার পর তিনটি মেয়েকে রেখে তাদের মা চলে যায়। এরপর থেকে আমি যা আয় করি, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চালাই। মেয়েদের মানুষ করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। আমাদের এই দুঃসময়ের কথা শুনে খন্দকার আশরাফুল আলম মামুন নিজে এসে সহযোগিতা করেছেন। আমরা তাঁর প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে উত্তম প্রতিদান দান করেন।

চোখের পানি মুছতে মুছতে শিশুদের দাদি বলেন, ছেলেকে হারিয়েছি, নাতনীরা বাবা-মা দুজনের স্নেহ থেকেই বঞ্চিত। কখনো ভাবিনি কেউ এভাবে আমাদের পাশে দাঁড়াবে। আজ যে সহযোগিতা পেলাম, তা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। আল্লাহ যেন তাদের ভালো রাখেন।

আমিনা মামুন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা খন্দকার আশরাফুল আলম মামুন বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমার কাছে ইবাদতের অংশ। মহান আল্লাহ যতদিন আমাকে সামর্থ্য ও তাওফিক দেবেন, ততদিন অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব। সমাজের বিত্তবানরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে অনেক পরিবার নতুন করে বাঁচার আশা খুঁজে পাবে। আসুন, আমরা সবাই মানবতার সেবায় একে অপরের পাশে দাঁড়াই।

মানবিক সহায়তার এই উদ্যোগ অসহায় পরিবারটির মুখে সাময়িক হলেও স্বস্তির হাসি ফিরিয়েছে। তবে তিন এতিম শিশুর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সমাজের আরও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।