মোঃ নাজমুল হাচান: সালথা ফরিদপুর প্রতিনিধি: প্রবাস জীবনের স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে এক মুহূর্তেই নিভে গেল একটি পরিবারের তিনটি প্রাণ। সৌদি আরবে এক হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলার একই পরিবারের মা, মেয়ে ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের আরও দুই সদস্য। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের পুঠিয়া গ্রামসহ পুরো এলাকাজুড়ে।
নিহতরা হলেন সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও পুঠিয়া গ্রামের বাসিন্দা মরহুম নাজিমুদ্দিন মোল্যার সেজো মেয়ে তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫), তার মেয়ে জারা আক্তার (১৫) এবং ছেলে তাসবিক (২০)।
জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা একই গাড়িতে করে নিজেদের গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই তানিয়া তাহমিনা রিনা, তার কিশোরী মেয়ে জারা আক্তার এবং ছেলে তাসবিকের মৃত্যু হয়।
এদিকে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন রিনার স্বামী শফিকুল ইসলাম এবং বড় ছেলে নাবিল। স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা তাদের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
এই হৃদয়বিদারক সংবাদ দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই সালথার পুঠিয়া গ্রামে শোকের মাতম শুরু হয়। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী নিহতদের বাড়িতে ভিড় করছেন। একসঙ্গে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর খবর কেউই সহজে মেনে নিতে পারছেন না। এলাকাবাসী বলছেন, এমন নির্মম ঘটনা তারা আগে কখনও দেখেননি।
স্থানীয়রা জানান, তানিয়া তাহমিনা রিনা ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, নম্র ও সবার কাছে প্রিয় একজন মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে সৌদি আরবে বসবাস করছিলেন। সন্তানদের নিয়ে তার ছিল অনেক স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এক মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়।
এদিকে মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রয়োজনীয় যোগাযোগ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে স্বজনরা আশা প্রকাশ করেছেন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল, প্রবাস জীবনের সংগ্রামের পাশাপাশি প্রতিটি মুহূর্ত কতটা অনিশ্চিত। জীবিকার সন্ধানে হাজার হাজার বাংলাদেশি পরিবারের মতো তারাও দেশের বাইরে ছিলেন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে একসঙ্গে নিভে গেল একটি পরিবারের তিনটি প্রাণ।
সালথাবাসীসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন সবাই।
এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মহান আল্লাহ তাআলা যেন নিহতদের জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা দান করেন। আমিন।