প্রকাশিত : মঙ্গলবার , ৪ আগস্ট ২০২৬ , বিকাল ০৫:৪২।। প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহঃস্পতিবার , ৬ আগস্ট ২০২৬ , ভোর ০৫:০৩

বোয়ালমারীতে সত্তরোর্ধ্ব অসহায় বৃদ্ধাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ, আতঙ্কে ভুক্তভোগী


স্টাফ রিপোর্টার: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী গ্রামে এক সত্তরোর্ধ্ব অসহায় বৃদ্ধাকে জোরপূর্বক একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবকের বিরুদ্ধে। সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে উত্তেজিত কয়েকজন যুবক অভিযুক্তকে মারধর করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কমলেশ্বরদী গ্রামের পানা খন্দকারের ছেলে খন্দকার সরোয়ার ওরফে আগুন (৩৫) বাড়িতে একা থাকা ওই বৃদ্ধাকে জোর করে একটি ঘরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে আশপাশের নারীরা ছুটে এসে দরজা খুলে তাকে উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর ভুক্তভোগী এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনার পর অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানান, ভুক্তভোগী দীর্ঘদিন ধরে একা বসবাস করছেন। তাঁর দেখভাল করার মতো ঘনিষ্ঠ কোনো স্বজন নেই। মানুষের সহায়তায় কোনো রকমে জীবনযাপন করেন তিনি। ঘটনার দিন বৃদ্ধার চিৎকার শুনে আশপাশের নারীরা এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযুক্ত যুবক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং এর আগেও এলাকায় বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় মাতব্বর মিজবাহ উদ্দীন খান ঠাকুর বলেন, ছেলেটি আগে স্বাভাবিক ছিল। পরে মাদকের সংস্পর্শে এসে আচরণে পরিবর্তন আসে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা হবে।

ভুক্তভোগী বৃদ্ধা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি বারান্দায় বসে তসবিহ পড়ছিলাম। হঠাৎ সে আমাকে জোর করে ঘরের ভেতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। আমি চিৎকার করলে আশপাশের মানুষ এসে আমাকে উদ্ধার করেন। এখন আমি খুব আতঙ্কে আছি। আমার নিরাপত্তা ও এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

অভিযুক্তের বাবা-মা বলেন, তাদের ছেলে দীর্ঘদিন মাদকাসক্ত। তাকে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য রাখা হয়েছিল এবং কয়েক মাস আগে বাড়ি ফিরেছে। তারা বলেন, যদি সে অন্যায় করে থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে। অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, নারী ও প্রবীণদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।