প্রকাশিত : বৃহঃস্পতিবার , ৬ আগস্ট ২০২৬ , বিকাল ০৩:৩৩।। প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার , ৭ আগস্ট ২০২৬ , ভোর ০৪:৫২

বোয়ালমারীতে ডাকাতি মামলায় অব্যাহতি ও ক্ষতিপূরণ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন


বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের বাইখীর বনচাকী গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় মাইক্রোবাসচালক বিল্লাল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দায়ের করা ডাকাতি মামলাকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি করে মামলা থেকে অব্যাহতি এবং সম্মানহানির ক্ষতিপূরণ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বোয়ালমারী পৌর শহরের পরশ রেন্ট-এ-কার কার্যালয়ে রেন্টকার মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, মাইক্রোবাস মালিক, চালক, শ্রমিক এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী বিল্লাল বিশ্বাস। তিনি বলেন, প্রায় ৪১ বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এর মধ্যে গত প্রায় ২০ বছর ধরে বোয়ালমারী মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে সততা ও সুনামের সঙ্গে মাইক্রোবাস চালিয়ে আসছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কখনো কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। অথচ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে একটি ডাকাতি মামলায় আসামি করা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ২৭ মে ঈদুল আজহার আগে রাত ৮টার দিকে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থানার হরিনারঘাট এলাকায় গরু ব্যবসায়ীদের আনতে যান। রাত প্রায় ১টার দিকে যাত্রীরা গাড়িতে ওঠেন। ফেরার পথে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের মীরেরডাঙ্গা এলাকায় একটি সেতুর ওপর পৌঁছালে দেখতে পান রাস্তার ওপর গাছ ফেলে রাখা হয়েছে এবং সামনে একটি ইজিবাইক দাঁড়িয়ে আছে। গাড়ি থামানোর সঙ্গে সঙ্গে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত গাড়ির গ্লাস ভেঙে তার গলায় ছুরি ধরে। তারা তার কাছ থেকে নগদ ২ হাজার টাকা ও একটি বাটন মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

তিনি আরও বলেন, গাড়িতে থাকা আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাচুড়িয়া ইউনিয়নের চরনারায়ণদিয়া গ্রামের গরু ব্যবসায়ী রমজান পালানোর চেষ্টা করলে ডাকাতরা তাকে ধরে মারধর করে। একই সঙ্গে গাড়িতে থাকা অন্যান্য যাত্রীদের কাছ থেকেও নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে জানতে পারেন, সামনে থাকা ইজিবাইকেও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর তারা মুকসুদপুর থানায় গেলেও কোনো লিখিত অভিযোগ না দিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন।

বিল্লাল বিশ্বাসের দাবি, পরদিন সকালে যাত্রীদের বাড়ি আলফাডাঙ্গার চরনারায়ণদিয়া গ্রামে পৌঁছানোর পর কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী তাকে অন্যায়ভাবে ডাকাত দলের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করেন। তারা তাকে মারধর করেন, আটকে রাখেন এবং তার কাছে ৮৫ লাখ টাকা দাবি করেন। খবর পেয়ে তার পরিবারের তিন সদস্য সেখানে গেলে তাদেরও আটকে রাখা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার তিন দিন পর গরু ব্যবসায়ী রমজান মুকসুদপুর থানায় তার বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন, মামলায় তাকে সম্পূর্ণ মিথ্যাভাবে জড়ানো হয়েছে এবং তার দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ন ও হয়রানি করতেই এ মামলা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিল্লাল বিশ্বাস তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি এবং সম্মানহানির ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন রেন্টকার মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, সদস্য পলাশ সরকার, ভুক্তভোগীর স্ত্রী আফরোজা বেগম, ভাই লায়েস বিশ্বাস এবং গ্রামীণ রেন্ট-এ-কারের মালিক মহাসিন ইসলাম স্বপন।

বক্তারা বলেন, বিল্লাল বিশ্বাসকে তারা দীর্ঘদিন ধরে একজন সৎ, পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল চালক হিসেবে চেনেন। তাদের দাবি, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি পুনঃতদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।