প্রকাশিত : বৃহঃস্পতিবার , ২৭ আগস্ট ২০২৬ , রাত ১০:১০।। প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার , ২৮ আগস্ট ২০২৬ , রাত ০৩:২১

বোয়ালমারীর সৌদি প্রবাসী সুরুজের লাশ ফেরত চাই পরিবার


স্টাফ রিপোর্টার: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গুণবহা ইউনিয়নের আখালীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী সুরুজ শেখ (২৭) এর লাশ ফেরত চাই তার পরিবার। তিনি 

সোমবার বাংলাদেশী সময় বেলা সাড়ে বারোটায় সৌদি আরব একটি হাসপাতালে চিকিৎসা রত অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। নিহত সুরুজ শেখ আখলীপাড়া গ্রামের আরব আলী শেখের ছেলে। যে বাড়িতে আনন্দ উল্লাস হওয়ার কথা সে বাড়ি এখন দুঃখের সাগরে ভাসছে। নিহতের গ্রামের বাড়তে কান্নার রোল চলছে। তারা নিহত সুরুজ শেখের লাশটি দেশে ফেরত চান।

নিহতের পরিবার সূত্র জানা যায়, সুরুজ শেখ পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে সৌদি আরবে পারিজমান। রিয়াদ হুতায় প্রায় ৭ বছর যাবত কাজ করতেন তিনি। হঠাৎ জুলাই মাসের প্রথম দিকে পেটে ব্যাথা নিয়ে সৌদি আরবের সরকারি বাতা মার্কেট সমরিতা হসপিটালের ভর্তি হয়। পরে সেখানে চেকআপে পাওয়া যায়। পেটের ভেতর নাড়ী উল্টে গিয়েছে। দ্রুত অপারেশন করা লাগবে। পরে জুলাইয়ের ২৬ তারিখে অপারেশন করা হয়। অনেকটা সুস্থতা হয়ে ফেরেন। প্রায় এক মাস পরে পেটের সেলাই কাটতে একই হাসপাতালে যায়। বাংলাদেশী সময় সেখানে ২৪ আগস্ট বেলা বারোটার দিকে হৃদপিণ্ড বন্ধ হয়ে মারা যান। পরে স্বজনরা জানতে পেরে তার পরিবারকে জানাই। এখন নিহত সুরুজ শেখের লাশ বাংলা দেশে আনতে পরিবার সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। যেন তাদের সুরুজকে দ্রুত বাংলাদেশে আনার আহবান জানান। 

সুরুজ শেখ সৌদি আরবে ফ্রি ভিসায় রিয়াদের হুতায় কন্সট্রাকশনের কাজ করতেন। দীর্ঘ ৭ বছরের একটি নতুন বিল্ডিং তৈরী করছিলেন। তবে এখনো সে বিল্ডিংয়ের কাজ শেষ হয়নি। বাড়িটা কম্পিলিট করে দেশে এসে তার বিবাহ করার কথা ছিল। তবে স্বপ্ন ও আশা তার মৃত্যুতে ফিকে হয়ে গেল।

নিহতের বোন জামাই লিবিয়া প্রবাসী বলেন, আমার স্ত্রীর বড় ভাই সুরুজ শেখ অনেক ভলো মনের মানুষ ছিলেন।  সরকারের নিকট দাবী আমার ভাইয়ের লাশটি দেশের ফেরানোর ব্যবস্থা করুন। 

নিহতের বাবা আরব আলী শেখ বলেন, আমার ছেলে প্রায় ৭ বছর যাবত সৌদি আরবে কাজ করেছেন। অবশেষ অসুস্থ হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে। আমরা এখন আমাদের ছেলের লাশটা সুস্থমত ফেরত চাই। যেন শেষ দেখা একবার দেখতে পারি।

নিহতের বড় বোন রেনু পারভীন বলেন, হঠাৎ করে আমার ভাইয়ের পেট ফুলে যায়। পরে সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে বেসরকারি হাসপাতে ১৭ হাজার রিয়াল চেয়েছিল। পরে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করানো হয়। সেলাই কাটতে গিয়ে আমার মারা যায়। আমার ভাইয়ের মরদেহ ফেরত চাই। আমার ভাই বাড়ি আসলে তাকে বিবাহ দিবো। এখন  আসলেও আসবে তার মরদেহ। প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমাের আবেদন আমার ভাইয়ের মরদেহ এনে দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করে দিন।

নিহতের মা বার বার মূর্ছা যাচ্ছে- আর কাদছে। তিনি কেঁদে কেঁদে বলেন, আমার বুক চিরা ধন আমাদেরকে রেখে চলে গেল। আমার ছেলের লাশটা এখন আমরা ফেরত চাই। 

বোয়ালমারী উপজেলার প্রশাসন নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান বলেন, সৌদি প্রবাসী পরিবারের লোকজন আসলে একটি লিখিত দিলে। আমারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়ে তার লাশ আনার চেষ্টা করবো।