বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার মধুমতি নদীর ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহসভাপতি ও ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। শনিবার বিকেলে তিনি উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ট্রলারে করে নদীপথে ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।
এদিকে তিনি উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের চরখোলাবাড়িয়া ও চরমাকড়াইল এবং গোপালপুর ইউনিয়নের দিগনগর গ্রামের মধুমতি নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের চিত্র সরেজমিনে দেখেন তিনি। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা নদীভাঙনের কারণে তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বসতভিটা হারানোর আশঙ্কাসহ নানা দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।
নদীভাঙনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় খন্দকার নাসিরুল ইসলাম তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের বর্তমান পরিস্থিতি ও সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
পরে চরখোলাবাড়িয়া এলাকার আল হেরা দাখিল মাদরাসায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের আয়োজনে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম।
সভায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাকে আপনারা ভোট দেন আর না দেন, আমার মন আপনাদের জন্য কাঁদে। আমি আমার সাধ্যমতো আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।
তিনি আরও বলেন, নদীভাঙনের মতো দুর্যোগে মানুষ যখন বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সমস্যাগুলো সংশ্লিষ্টদের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার চেষ্টা করার কথাও জানান তিনি।
স্থানীয়রা বলেন, মধুমতি নদীর ভাঙন প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। নদীভাঙনের কারণে অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা ও আবাদি জমি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা এসব মানুষের জন্য স্থায়ী সমাধানের প্রয়োজন বলে জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি সাবেক এমপি নাসিরুল ইসলাম নদীর তীরবর্তী পরিস্থিতি ও ভাঙনের মাত্রা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় নদীভাঙনকবলিত মানুষের দুর্দশা ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক নুরজামাল খসরু, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুজ্জামান হাসিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাফিল মোল্যা, যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান কদর ও জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জহিরসহ উপজেলা ও স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
নদীভাঙনকবলিত এলাকায় সাবেক সংসদ সদস্যের সরেজমিন পরিদর্শনে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়। তারা নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান ও বসতভিটা-ফসলি জমি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।