প্রকাশিত : বৃহঃস্পতিবার , ২০ নভেম্বর ২০২৫ , দুপুর ০১:৩৯।। প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহঃস্পতিবার , ২২ জানুয়ারী ২০২৬ , রাত ১১:৫২

বোয়ালমারীতে চেয়ারম্যানের ভাইয়ের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর-এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক, মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন স্থানীয়রা


ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মান্নান মাতুব্বরের ছোট ভাই সিদ্দিক মাতুব্বরের বাড়িতে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা সন্ধ্যায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও তাণ্ডব চালিয়েছে। ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যা রাতেৃ। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎই শুরু হয় হামলাকারীদের তাণ্ডব। পরিবারের সদস্যরা জীবন বাঁচাতে ঘর ছেড়ে গোপন স্থানে আশ্রয় নেন।

পরিবারের এক সদস্য জানান—“আমরা চিৎকার করতে পারিনি। যেন মৃত্যু এসে দরজায় দাঁড়িয়েছিল। শুধু ভাঙচুরের শব্দ, গালাগালের শব্দ… মনে হচ্ছিল আজই শেষ।”

হামলাকারীরা বাড়ির দরজা-জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে একের পর এক কক্ষ তছনছ করে। আলমারি, শোকেস, ইলেকট্রনিকস, আসবাব—কিছুই রক্ষা পায়নি। পরিবার দাবি করেছে, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান অনেক জিনিস লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয়দের মুখে একই সুর—“কে করেছে জানি, কিন্তু নাম বলবো না। বললে রাতে এসে মাথা কেটে নেবে। আমরা কিছু জানি না—এটাই ভালো।”

একজন দোকানদার জানান, ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে ভয়াবহ আতঙ্ক। রাতে কেউ বাড়ির বাইরে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না।

আরও এক তরুণ বলেন—“আমাদের এলাকা শান্ত ছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে কোনো আইনই নেই এখানে। সবাই ভয়েই চুপ।”

হামলার পরদিন সকালে চেয়ারম্যান পরিবারের কাছ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, সম্ভাব্য প্রতিশোধের ভয়ে তারা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

একজন আত্মীয় বলেন—“এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে উল্টো আমাদেরই ক্ষতি হবে। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছি।”

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন—“এ ঘটনায় এখনো কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তিনি আরও বলেন, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নজরদারি করছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে হামলাকে ঘিরে নানা গুঞ্জন চলছে। চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান মাতুব্বরের পরিবার রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকে মনে করছেন, এটি হয়তো প্রতিহিংসামূলক হামলা। তবে এ বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইছেন না।

ঘটনার কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও গ্রামে এখনো ভয়, আতঙ্ক ও টেনশন বিরাজ করছে। সন্ধ্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ঘরে ঢুকে দরজা-জানালা বন্ধ করে ফেলছে।

স্থানীয়রা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন