প্রকাশিত : শুক্রবার , ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ , রাত ০৮:৫৬।। প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহঃস্পতিবার , ২২ জানুয়ারী ২০২৬ , রাত ১১:৫৪

কোটালীপাড়ায় মৎস্য ঘেরের আগ্রাসনে সড়ক ধ্বংস, দিশেহারা ঠিকাদার ও জনসাধারণ


গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় একের পর এক মৎস্য ঘেরের আগ্রাসনে গিলে খাচ্ছে নির্মাণাধীন সড়ক। এতে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানসহ এলাকাবাসী। কুশলা ইউনিয়নের বানিয়ারী থেকে কলাবাড়ী পর্যন্ত নির্মাণাধীন সড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, মৎস্যজীবী ও কৃষকদের উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে কুশলা–কলাবাড়ী ১১ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। প্রকল্পের আওতায় মাটি ভরাট, ইটের সোলিং, প্লাসেটিং, ঘানি ব্যাগ, গার্ডার ও ব্রিজ নির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে যৌথভাবে কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজ ও লুৎফুল কবির জেবি, বরিশাল।

সিডিউল অনুযায়ী ২০২৩ সালের মধ্যে কাজ শেষ করে প্রকল্প হস্তান্তরের কথা থাকলেও এখনো তা সম্ভব হয়নি। সড়কের দু’পাশে অসংখ্য মৎস্য ঘের থাকায় বর্ষা মৌসুমে পানির ঢেউ ও মাছের নড়াচড়ায় প্রতিনিয়ত সড়ক ভেঙে পড়ছে। ফলে বছরের পর বছর কাজের মান ধরে রাখতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে।

এলাকাবাসী হালিম মোল্লা, ইউনুস সাখাওয়াতী, শাজাহান শেখ, কুদ্দুস শেখ, শিবু মিত্রসহ একাধিক ব্যক্তি সাংবাদিকদের জানান, “বিল এলাকার এই সড়কটি কৃষিপণ্য, মাছ ও পশুখাদ্য পরিবহনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মৎস্য ঘেরের কারণে সড়ক বারবার ভেঙে যাচ্ছে। ঘের মালিকদের নিজ দায়িত্বে প্রটেকশন দিয়ে মাছ চাষ করা উচিত।”

সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ঘের পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে অনেক ঘের মালিকের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ঘের মালিক চঞ্চল শেখ বলেন, “পানির ঢেউ ও মাছের খোঁচায় সড়কের পাশ ভেঙে যায়।” 

অন্যদিকে সামচুল হক শেখ (সামচু মহাজন) জানান, “আগে আমরা নিজেরা ঘেরে মাছ চাষ করতাম। কয়েক বছর ধরে চঞ্চল ঘেরগুলো ভাড়া নিয়েছে। তাকে একাধিকবার প্রটেকশন দেওয়ার কথা বললেও সে তা মানছে না।”

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উৎসব বৈদ্য ও আল আমিন শেখ বলেন, “মৎস্য ব্যবসায়ীরা নিজ অর্থায়নে সড়কের পাশে পর্যাপ্ত প্রটেকশন না দিলে সড়ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বারবার সংস্কার করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ অপচয় হচ্ছে।”

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী সফিউল আজম জানান, “মৎস্য ঘের মালিকদের লিখিতভাবে জানানো হয়েছে—সড়কের পাশে অন্তত ১০ ফুট প্রটেকশন দিয়ে মাছ চাষ করতে হবে। কিন্তু অনেকেই এই নির্দেশনা মানছেন না।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, “সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রটেকশন ছাড়া ঘেরে মাছ চাষ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সড়ক রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও মৎস্য ঘের মালিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।