স্টাফ রিপোর্টার: ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন এলাকায় অবৈধভাবে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির অভিযোগে সেনা অভিযানে ০১ জনকে অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরীর সরঞ্জামসহ আটক করা হয়েছে। অভিযানে তার বসতবাড়ি থেকে একটি সিঙ্গেল ব্যারেল পাইপ গান, ১২ গেজের একটি কার্তুজ এবং অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
সেনা সূত্রে জানা যায়, ডুমাইন এলাকায় দেশীয় অস্ত্র প্রস্তুত ও সরবরাহ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে মধুখালী আর্মি ক্যাম্পে একাধিক অভিযোগ আসছিল। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাদল সরকার নামে একজন ব্যক্তি নিজের নির্মিত ওয়ার্কশপে নিয়মিতভাবে অস্ত্র প্রস্তুত করতেন এবং ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় দুর্বৃত্তরা তার তৈরিকৃত অস্ত্র দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করত বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগেও কয়েক দফায় তাকে আটক করতে চেষ্টা করলেও তাকে আটক করতে চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। সম্প্রতি আসন্ন নির্বাচনকে বানচাল করার উদ্দেশ্যে ও ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য দুর্বৃত্তরা তার কাছে অস্ত্র তৈরীর অর্ডার দিয়েছে বলে জানা গেলে এ নিয়ে ফরিদপুরে জনমনে নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়।
২৩ জানুয়ারি বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায় যে, ডুমাইন ইউনিয়নের একটি স্থানে বাদল সরকার নিজস্ব ওয়ার্কশপে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে মধুখালী আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে তাৎক্ষণিকভাবে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং অভিযানে সন্দেহভাজনের বসতবাড়ি ঘিরে তল্লাশি শুরু করা হয়।
অভিযানকালে ডুমাইন এলাকার বাদল সরকার (৫২), পিতা: মৃত মিতাই সরকার, গ্রাম: ডুমাইন, ইউনিয়ন: ডুমাইন, উপজেলা: মধুখালী, জেলা: ফরিদপুর—কে তার বসতবাড়ি থেকে আটক করা হয়। তল্লাশিতে তার হেফাজত থেকে ১টি সিঙ্গেল ব্যারেল পাইপ গান, ১টি ১২ গেজ কার্তুজ, ১৪টি রিকয়েল স্প্রিং, ২টি হ্যামার, ১টি ড্রিল মেশিন, ১টি প্লায়ার্স, ১টি ব্লোয়ার, ১টি হ্যাক স’সহ অস্ত্র তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, বাদল সরকারের বিরুদ্ধে এর আগেও অস্ত্র সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি বিভিন্ন সময় অস্ত্র প্রস্তুত ও মজুদের অভিযোগে পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন।
আটক আসামিকে এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি আইনগত প্রক্রিয়ায় মধুখালী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় সম্ভাব্য ক্রেতা/সংশ্লিষ্টদের শনাক্তে তদন্ত চলমান রয়েছে।
সেনা সূত্র মতে জানা যায়, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাদক, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে সেনাবাহিনী। অপরাধ দমনে সেনা ক্যাম্পসমূহকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সহায়তা করার জন্য সকল নাগরিককে আহ্বান জানানো হয়েছে।