প্রকাশিত : রবিবার , ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , সকাল ১১:০৫।। প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার , ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , বিকাল ০৫:২৩

ফরিদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবলে ভোট না দিয়ে ধানের শীষে ভোট দেয়া সমর্থকদের বাড়ি ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগ জিহাদ গংদের বিরুদ্ধে


স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ‘ফুটবল’ প্রতীকে ভোট না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আধিপত্য বিস্তার ও নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনার জেরে দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বোয়ালমারী ও সালথা উপজেলার সীমান্তবর্তী ময়েনদিয়া বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

দীর্ঘদিনের বিরোধ, হঠাৎ রূপ নেয় সহিংসতায় পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বর ও সুজন সরদারের সমর্থকদের সঙ্গে সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের টুলু মিয়া ও মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল।

নির্বাচনে ভোট দেওয়া নিয়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে শনিবার সকালেই তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়।

আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর সংঘর্ষে আব্দুর রহিম ও আশরাফ মাতুব্বর গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া আরও অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। গুরুত্বর আহতদের ফরিদপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শাহজাহান বলেন, আমরা সংসদ নির্বাচনে শ্রীনগর প্রাইমারি স্কুল কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোট দিয়েছি। পাশের এলাকার জিহাদ গ্রুপ আমাদের ফুটবল প্রতীকে ভোট দিতে চাপ দিয়েছিল। এ কেন্দ্রে ফুটবল হেরে যাওয়ায় আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

ফল ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, আমার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে মুশফিক বিল্লাহ ও তার লোকজন।

অভিযুক্ত পক্ষের মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী- বোয়ালমারী- আলফাডাঙ্গা সার্কেল) আজম খান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ময়েনদিয়া ও খারদিয়ার দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ও সেনাবাহিনী টহলরত অবস্থায় রয়েছে।