বোয়ালমারী ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ভাগনে রেজওয়ানুর রহমান স্বচ্ছের করা কথিত মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন মামা মো. মিজানুর রহমান। শুক্রবার বিকেলে নিজেদের চতুল ইউনিয়নের বাইখীর মিয়া বাড়িতে এক লিখিত বক্তব্যে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে মো. মিজানুর রহমান বলেন, তার ভাগনে রেজওয়ানুর রহমান স্বচ্ছ পূর্বপরিকল্পিতভাবে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির প্ররোচনায় বিভ্রান্তিকর ও মনগড়া তথ্য উপস্থাপন করে সংবাদ সম্মেলন করেছে। এর মাধ্যমে তার ব্যক্তি সম্মান, পারিবারিক মর্যাদা ও সামাজিক অবস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে এবং সাম্প্রতিক ঘটনাটি সেই ষড়যন্ত্রেরই অংশ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাদের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলমান রয়েছে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। কিন্তু এ অবস্থার সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষ বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে তাকে ও তার পরিবারকে হয়রানি করে আসছে। সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলন সেই চাপ সৃষ্টি ও জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর একটি কৌশল বলেও তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সামাজিক ও বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। আমার এই পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ন করার জন্যই পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ সাজানো হয়েছে। এতে শুধু আমাকে নয়, আমার পুরো পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে যেসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ অসত্য, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা হিসেবে তিনি বিষয়টিকে দেখছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এ সময় মো. মিজানুর রহমান নিজের ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, প্রতিপক্ষের ধারাবাহিক অপপ্রচার ও হয়রানির কারণে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক এবং মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি তার ও তার পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তিনি লিখিত ভাবে জানান, ২০২৬ সালে বিগত রমজান মাসে আমার জমির সামনে রেল সড়কের পাশের জায়গা ভাগনে দখল করতে গেলে বাড়ির পাশে প্রতিবেশীদের সাথে হট্রগোলে জড়িয়ে পড়ে। এসময় স্বচ্ছ তার স্ত্রী প্রতিবেশী এক নারীকে ও আমার স্ত্রীকে শারিরীকভাবে ও শ্লীলতাহানী মারধর করে। এ ঘটনায় ভাগনে স্বচ্ছের আমার পরিবার ও গ্রামবাসীদের মিলে ১০ জনের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। আমরাসহ যাদের নাম আছে আমরা এ মামলা থেকে অব্যাহতি চাই।
মিজানুর রহমান বলেন, ভাগনের মা আমার বড় বোন সুলতানা রাজিয়া বেগমের দুটি ছোট ছোট বাচ্চা রেখে দুলা ভাই মারা যান। এর পর থেকে আমাদের বাড়িতে বসবাস করতো। ভাগনে। তবে ঢাকা চাকরীর সুবাদে ভাগনে সেখানে থাকতেন। তবে করোনার সময় ভাগনে বাড়ি চলে আসে। এর পর থেকে সে আর আমার ঘর থেকে নামতে চায়না। আমরা ৪ ভাই বোন। বড় বোনের সম্পত্তি সকল বুঝিয়ে দেয়া হয়। তার পরে আমার নিজের ঘর থেকে তার নামতে চাননা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভাগনেসহ সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।