স্টাফ রিপোর্টার: দেশব্যাপী চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, ঘুষ-দুর্নীতি ও মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে এবং এগুলো সম্পূর্ণরূপে নির্মূলে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
শনিবার বিকেলে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের বেড়াদী গ্রামে শ্মশান কালী মন্দিরের বার্ষিক পূজা-অর্চনা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।
মন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, ঘুষ ও দুর্নীতির মতো অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। একইসঙ্গে মাদক একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি হিসেবে দেশের যুবসমাজকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সামগ্রিকভাবে সমাজব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদক নির্মূলে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন, যা উপস্থিত জনসাধারণের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়।
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ও সৌন্দর্যমণ্ডিত দিক। যার যে রাজনৈতিক আদর্শ রয়েছে, সে অনুযায়ী মত প্রকাশ ও ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে—এটাই গণতন্ত্রের মূল কথা। তবে মতভেদের কারণে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি বিভাজন পরিহার করে জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দেশের সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করছে। মসজিদ, মন্দিরসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে ।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি খান জাহান আলীর মাজার, মহাস্থানগড়সহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি যাত্রাপালা, কবিগান, ভাওয়াইয়া, মুর্শিদি ও মারফতি গানসহ গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দোকার নাসিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, মধুখালীর সার্কেল এএসপি আজম খান, বোয়ালমারী উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি শিব্বির আহমেদ, অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন, সাতৈর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাফিউল আলম মিন্টু এবং উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।