প্রকাশিত : মঙ্গলবার , ২৮ এপ্রিল ২০২৬ , রাত ০১:১৯।। প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার , ২৮ এপ্রিল ২০২৬ , সন্ধ্যা ০৬:৩৭

ফরিদপুরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তিনজনকে হত্যা, গুরুতর আহত ১, আসামি পলাতক


স্টাফ রিপোর্টার: ফরিদপুর সদরের আলিয়াবাদ ইউনিয়নে এক বিভীষিকাময় রাত কাটিয়েছে স্থানীয়রা। হঠাৎ করেই নেমে আসে রক্তাক্ত তাণ্ডব—কোদাল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় তিনজন নিরীহ মানুষকে। একই হামলায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন হাসপাতালে। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, আতঙ্কে রয়েছে সাধারণ মানুষ।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গদাধরডাঙ্গী গ্রামের আজগর মোল্লার বাড়ির উঠানে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ চিৎকার আর আর্তনাদে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটে যায় এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আকাশ (২৮) নামের এক যুবক, যাকে এলাকাবাসী মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করছেন, হঠাৎ করেই একটি কোদাল হাতে নিয়ে উপস্থিতদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। তার এই উন্মত্ত আক্রমণে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন রাহেলা বেগম (৫০), আমেনা বেগম (৭৫) ও কাবুল (৪৫)। তাদের চিৎকার-চেঁচামেচিতে চারপাশ ভারী হয়ে উঠলেও কেউ এগিয়ে যাওয়ার আগেই সবকিছু শেষ হয়ে যায়।

এ সময় হামলায় গুরুতর আহত হন রিয়াজ মোল্লা (৪৫)। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত আকাশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এরপর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ভয়ে ঘর থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না। অনেকেই বলছেন, এমন নৃশংস ঘটনা তারা আগে কখনো দেখেননি।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। খুব দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে পুলিশ।

এদিকে, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোকের মাতম বইছে। স্বজন হারানো পরিবারগুলোতে চলছে আহাজারি, আর স্থানীয়দের মনে জমে উঠেছে ভয় আর ক্ষোভ।