প্রকাশিত : রবিবার , ১৭ মে ২০২৬ , সকাল ১১:০০।। প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার , ১৮ মে ২০২৬ , রাত ০১:৩৭

উৎপাদন খরচই উঠছে না কাউনিয়ায় ধানের দাম না পেয়ে চরম ক্ষতির মুখে চাষিরা


জহির রায়হান কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধিঃ রংপুরের কাউনিয়ায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলেও বাজারে ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি নেই। জ্বালানি তেল, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির ফলে ধান চাষে খরচ তিন গুণ বেড়েছে। অথচ বাজারে ধানের দাম কম থাকায় মৌসুমের শুরুতে লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে আমদানি করা (এলসি) চালের মজুত থাকায় নতুন ধান কেনার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না মিলাররা। ফলে বাজারে ধানের দাম বাড়ার সম্ভাবনাও আপাতত কম। বরং আবহাওয়া খারাপ হলে দাম আরও কমে যেতে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানাগেছে চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৭ হাজার ৫শ' হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে।

 ধানের উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ৭০১ মেট্রিক টান। কৃষি বিভাগ আরো জানায়  এবার ফলন ভালো হয়েছে, তবে মাঠ পর্যয়ে চাষিরা বলছেন ভিন্ন কথা। কৃষকরা জানান, বৈরী আবহাওয়া, রোগবালাই ও অতিরিক্ত খরচের কারণে ফলন আশানুরূপ হয়নি। উপরন্ত বাজারে ধানের দাম কম থাকায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে, উৎপাদন ব্যয় ও বাজারমূল্যের অসামঞ্জস্যে কৃষকের ঘরে নতুন ধান উঠলেও স্বস্তি ফিরছে না। গদাই গ্রামের কৃষক ফুল মিয়া জানান, গত বছরের তুলনায় প্রতি বিঘায় ৩-৪ মণ ধান কম উৎপাদন হচ্ছে এবং বর্তমানে বাজারে দামও কম। বাজাওে নতুন ধান ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা মন দওে বিক্রি হচ্ছে। এতে কৃষকরা ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন। তিনি ফরিয়া দালালদেও কাছ থেকে কৃষকদেও রক্ষা করে ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তানিয়া আকতার বলেন, পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এবার ফলনও ভাল হয়েছে। বোরো ধান কাটতে কৃষিশ্রমিকের পাশাপাশি হারবেস্টার মেশিন দিয়েও ধান কাটাই-মাড়াই চলছে। আকাশের অবস্থা ভালো না থাকায় কৃষকরাও দ্রুত তাদের খেতের ধান গোলাই তুলতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।