প্রকাশিত : মঙ্গলবার , ১৯ মে ২০২৬ , রাত ০৮:৪৭।। প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহঃস্পতিবার , ১১ জুন ২০২৬ , ভোর ০৫:০৫

বোয়ালমারীতে স্কুল ফিডিংয়ে নিম্নমানের কলা, এক সপ্তাহ ডিম সরবরাহ বন্ধের অভিযোগ


স্টাফ রিপোর্টার: বোয়ালমারী উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার হিসেবে নিম্নমানের কলা সরবরাহ এবং টানা এক সপ্তাহ ডিম না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার একাধিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে দেখা যায়, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা শিক্ষার্থীদের মাঝে নিম্নমানের কলা সরবরাহ করছে। অভিযোগ রয়েছে, গত এক সপ্তাহ ধরে বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে ডিমও সরবরাহ করা হয়নি। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কলা, ডিম ও রুটি সরবরাহ করা হয়, আর বিস্কুট ও দুধ সরাসরি প্রাণ কোম্পানি সরবরাহ করে থাকে।

উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের ৬৪ নম্বর বাগুয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে দাগযুক্ত ও নিম্নমানের কলা বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা ইসলাম জানান, গত সপ্তাহে ফাটা ডিম ফেরত দিয়েছিলাম। এরপর থেকে আমাদের ডিম দেওয়া হয়নি। সোমবার আমি ছুটিতে ছিলাম, তখন কলা সরবরাহ করা হয়েছে। পরে শুনেছি কলায় হালকা দাগ ছিল।

চতুল ইউনিয়নের পোয়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, খাদ্য বিতরণে শিক্ষকদের মধ্যে উদাসীনতা রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে মোট ১৭৪ জন শিক্ষার্থী থাকলেও খাবার পান ১৩৮ জনের। মঙ্গলবার কোন খাবার বিতরণ করা হয়েছে—এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি প্রধান শিক্ষক। পরে এক সহকারী শিক্ষিকা মিতালী ভট্টাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের রুটি ও দুধ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তারা কলা ও বিস্কুট পেয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে—আসলেই খাবার সঠিকভাবে বিতরণ হচ্ছে কি না।

পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আন্না খানম বলেন, আমরা একটু বিচলিত হয়ে ভুল বলেছি। আজ আমাদের তালিকায় কলা ছিল, কিন্তু তা শেষ হয়ে গেছে। আমরা স্বচ্ছতার সঙ্গে খাবার বিতরণ করি। সামান্য ভুল হতে পারে।

দক্ষিণ হাসামদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুব্রত কুমার রায় বলেন, শুরুর দিকে রুটির আকার বড় ছিল। এখন তা ছোট মনে হচ্ছে।

হাসামদিয়া প্রধান শিক্ষক সৈয়দা আইরিন পারভীন জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডিম সরবরাহ করছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের ডিম দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

অভিযোগের বিষয়ে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা-এর বোয়ালমারী ফিল্ড অফিসার মো. বশির উদ্দীন বলেন, আমরা ১৫ হাজার ৮২১ জন শিক্ষার্থীর খাবার বিতরণ করি। বাগুয়ান স্কুলের কলার আকার ঠিক ছিল, তবে কিছু কলায় হালকা দাগ ছিল। ডিম সরবরাহ কম থাকায় দিতে পারিনি। এখন থেকে সমস্যার সমাধান হবে। রুটির সাইজও মোটামুটি ঠিক আছে, দু-একটা ছোট-বড় হতে পারে।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস-এর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, শিক্ষকদের আগে থেকেই নির্দেশনা দেওয়া আছে—শিক্ষার্থীদের খাবারের মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। নিম্নমানের খাবার গ্রহণ না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল বলছে, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে চালু হওয়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে যদি নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হয়, তবে এর সুফল নষ্ট হবে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।