জহির রায়হান কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি : কাউনিয়া উপজেলার গাজীরহাট নতুন বাজার থেকে কালীরহাট যাওয়া পাকা সড়কে পুরোনো কালভার্ট টি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েক গ্রামের সাধারণ মানুষকে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে ঝুঁকিপূর্ণভাবে কালভার্ট টপকিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন অটো রিকশা চালক, মোটরসাইকেল আরোহী, সাইকেল চালক ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীরহাট নতুন বাজার থেকে কালীরহাট পাকা রাস্তা টি কয়েক গ্রামের মানুষের একমাত্র যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু সড়কের মাঝখানে একটি পুরোনো কালভার্ট ভেঙ্গে পড়ায় যানবাহন চলাচল একে বারে বন্ধ হয়ে পড়েছে। অনেকে হেলে পড়া কালভার্ট টপকিয়ে অটো রিকশা ও মোটরসাইকেল পারাপার করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রী ও বয়স্ক মানুষদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ভাঙ্গা কালভার্টের উপর দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, অতিদ্রুত একটি নতুন কালভার্ট নির্মাণ করা হলে কয়েক গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে।
এলাকার বাসিন্দা রোস্তম আলী বলেন, প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর আগে এই রাস্তার উপর কালভার্ট টি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু প্রবল পানির চাপে কালভার্ট টি দেবে ভেঙ্গে হেলে পড়ে। ফলে সাধারণ মানুষ ভেঙ্গে পড়া কালভার্টের উপর দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ছোটখাটো দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে।
মোঃ বাবুল মিয়া বলেন, এই রাস্তা দিয়ে কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে অনেক কষ্ট করতে হয়। একটি প্রসস্ত কালভার্ট নির্মাণ করা হলে মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।
বালাপাড়া ইউপি সদস্য মোঃ সোহরাব হোসেন বলেন,আমি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিসে কয়েকবার জানিয়েছি, উনারা তদন্তে করে গেছেন।
কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। এলাকাবাসীর স্বার্থে দ্রুত একটি ব্রীজ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, গাজীরহাট নতুন বাজার থেকে কালীরহাট সড়কের ভেঙ্গে পড়া কালভার্ট টি নির্মাণের বিষয় টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় জনগণের চলাচলের সুবিধা ও দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলমান। ইতোমধ্যে উপজেলা পরিষদে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা থেকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী সরেজমিনে গিয়ে তদন্তে করে প্রতিবেদন দিয়েছেন। পরবর্তীতে প্রকল্পের আওতায় এনে একটি কালভার্ট নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জনদুর্ভোগ কমাতে আমরা ইতিবাচকভাবে কাজ করছি।