প্রকাশিত : বৃহঃস্পতিবার , ২৫ জুন ২০২৬ , সন্ধ্যা ০৬:১৫।। প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার , ২৭ জুন ২০২৬ , ভোর ০৪:০০

সালথায় শিক্ষক রাজিব খন্দকারের মৃত্যুতে শোকের ছায়া, কান্নায় ভেঙে পড়লেন বড় ভাই আজাদ খন্দকার


মোঃ নাজমুল হাচান সালথা ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি এলাকার বাসিন্দা ও একজন সম্মানিত শিক্ষক রাজিব খন্দকার (৪৫) আর নেই। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগে অবশেষে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর এই অকাল প্রয়াণে পরিবার, স্বজন, শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজিব খন্দকার দীর্ঘদিন ধরে জটিল কিডনি রোগে আক্রান্ত ছিলেন। চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার জন্য তিনি অনেকদিন লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানতে হয়েছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রাজিব খন্দকার শুধু একজন শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন আদর্শ মানুষ, যিনি শিক্ষা, সততা ও মানবিকতার মাধ্যমে এলাকার মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তাঁর শিক্ষার্থীরা জানান, তিনি ছিলেন অত্যন্ত স্নেহশীল ও দায়িত্বশীল একজন শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম লক্ষ্য।

তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা ভিড় করেন তাঁর বাড়িতে। শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখতে এসে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। অনেকের চোখেই দেখা গেছে অশ্রু, অনেকেই স্মরণ করেছেন তাঁর সঙ্গে কাটানো নানা স্মৃতি।

ছোট ভাইয়ের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েন বড় ভাই আজাদ খন্দকার। জনসমক্ষে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, "আমার ছোট্ট ভাইয়ের এই অকাল মৃত্যু আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। পৃথিবীতে আসার একটা সিরিয়াল রয়েছে, কিন্তু যাওয়ার কোনো সিরিয়াল নেই। কে কখন চলে যাবে, তা কেউ বলতে পারে না। আজ আমার ভাই আমাদের ছেড়ে চলে গেছে, এটা ভাবতেই খুব কষ্ট হচ্ছে।"

আজাদ খন্দকারের এই কথাগুলো উপস্থিত সবার হৃদয় স্পর্শ করে। তাঁর কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছোট ভাইকে হারানোর বেদনা ফুটে ওঠে স্পষ্টভাবে। পরিবারের সদস্যরাও বারবার ভেঙে পড়েন শোকে।

এলাকাবাসী জানান, রাজিব খন্দকার ছিলেন একজন ভদ্র, বিনয়ী ও সমাজসেবামূলক মানসিকতার মানুষ। মানুষের বিপদে-আপদে তিনি সবসময় পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেন। তাঁর মৃত্যু শুধু পরিবারের জন্য নয়, পুরো এলাকার জন্যই এক অপূরণীয় ক্ষতি।

তিন কন্যাকে রেখে তাঁর এমন বিদায় অনেককেই ব্যথিত করেছে। এলাকাবাসী তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

জন্ম যেমন চিরন্তন সত্য, তেমনি মৃত্যু অবধারিত বাস্তবতা। কিন্তু কিছু মানুষের বিদায় হৃদয়ে এমন শূন্যতা তৈরি করে, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। শিক্ষক রাজিব খন্দকারের মৃত্যু ঠিক তেমনই এক বেদনাদায়ক ঘটনা, যার স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে বহন করবে তাঁর পরিবার, শিক্ষার্থী ও প্রিয় জন্মভূমির মানুষ।

আল্লাহ তাআলা মরহুম রাজিব খন্দকারকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন সময় ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।