স্টাফ রিপোর্টার: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ৮৫ নং বাগদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির (এসএমসি) নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। অভিভাবকদের একটি অংশ ক্ষোভে তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ২৪ জুন বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া কয়েকজন প্রার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়।
অভিভাবকদের অভিযোগ, নির্বাচন স্থগিত করার আগে তাদের নিয়ে সভা করে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই নির্বাচন স্থগিত করায় তারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাদের দাবি, সভাপতি পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা হোক।
এদিকে আনোয়ার হোসেন ও সৈয়দ আলী হোসেন পৃথক প্যানেলে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। নির্বাচনের দুই দিন আগে এক পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন স্থগিত হয়। এ ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।
প্রার্থী ও অভিভাবক সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। অভিভাবকরা যাকে যোগ্য মনে করবেন তিনিই নির্বাচিত হবেন। কিন্তু প্রতিপক্ষের কিছু প্রার্থী জয়ী হওয়ার বিষয়ে শঙ্কায় কৌশলে অভিযোগ দিয়ে নির্বাচন স্থগিত করেছে বলে আমরা মনে করছি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না।
অপর প্রার্থী সৈয়দ আলী হোসেন বলেন, আমরা শুনেছি কয়েকজন অভিভাবককে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত জটিলতার আশঙ্কায় অভিযোগ করা হয়েছে।
বোয়ালমারী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশন নাসিমা আক্তার বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। তবে নির্বাচন স্থগিত মানেই বাতিল নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে কয়েকজন নির্বাচন নিয়ে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করে অভিযোগ দিয়েছেন। তাই আপাতত নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে।
বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান বলেন, প্রার্থীদের আবেদনের ভিত্তিতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। বিদ্যালয় পরিদর্শন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করা হবে।