জহির রায়হান কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধিঃ বন্যা পরবর্তী সময়ে তিস্তার পানি কমতে শুরু করায় কাউনিয়ায় নদী ভাঙ্গণ দেখা দিয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঢুষমারা চরে ২৮টি পরিবারের বাড়ি ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী পাড়ের মানুষ ভাঙ্গন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়,মসজিদ সহ ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় অর্ধশত পরিবারের ভিটেমাটি । নদী ভাঙ্গনের শিকার পরিবার গুলো বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ইতিমধ্যে ঢুষমারার চরে বাদশা মিয়া, এরশাদ আলী, মোহাম্মদ আলী, জয়নাল আবেদীন, আব্দুল হামিদ, জয়নুদ্দিন,ভুলু মিয়া,সেকেন্দার আলী, জাহানারা পাগলী,জাফর আলী,রবিউল ইসলাম, গানু মিয়া,আব্দুল আজিজ, মিন্টু মিয়া,জুয়েল মিয়া,শিউলি বেগম,আলিনুর, আব্দুল আউয়াল, জিয়ারুল ইসলাম,সাজাহান আলী,রহিম উদ্দিন, জয়নব বেগম্ রুবেল, সাবিহা, নুর আলম, আয়শা, সাবিতন, আবেদ আলীর ভিটেমাটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও ,ঢুষমারা জামে মসজিদ, ঢুষমারা ফোরকানিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা সহ ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় অর্ধশত পরিবার। তবে নদীর একদম কিনারায় ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে সোলেমান, সুফিয়ান, সাবিল্লা বেগম ও রশিদ মিয়ার ভিটেবাড়ি।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে শুষ্ক মৌসুমের কঙ্কাল সার তিস্তা নদী পানিতে টইটম্বুর হয়ে ফুলে ফেঁপে উঠছে। নদীর পানি দু'কুল উপছে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ঢুষমারা চরের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন তিস্তা নদীর ভাঙ্গন বহুবার দেখেছি। তবে এবারের ভাঙ্গনের রুপ ভয়াবহ। এক সপ্তাহের মধ্যে ২০ টি পরিবারের ভিটেমাটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে । তারা এখন খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
নদী ভাঙ্গনের শিকার বাদশা মিয়া বলেন বর্তমানে তিস্তা নদী ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে । বন্যার পানি কমার সাথে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। নদী ভাঙ্গন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হল উপজেলার একমাত্র দ্বীপ গ্রাম চর ঢুষমারা এবারে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। নদী ভাঙ্গনের শিকার জয়নাল আবেদীন বলেন আমরা ত্রাণ চাই না নদী ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ চাই ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন চাই।
আবেদ আলী বলেন ভোটের আগে সবাই তিস্তা নদীর ভাঙ্গন রোধে কাজ করবে, কিন্তু আমাদের ভোটে এমপি -মন্ত্রী হয়ে আর আমাদের কোন খোঁজ খবর নেয় না। নদী শাসন করে ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানাচ্ছি।
বর্তমানে বাড়ি ভিটার পাশাপাশি ভাঙ্গতে শুরু করেছে,ফসলি জমি,মাঠ,ঘাট,সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য রাস্তা। এতে করে দূর্ভোগে পরেছে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেজবাহুল রহমান বলেন ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন কাউনিয়ার চর ঢুষমারা নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।