প্রকাশিত : রবিবার , ১২ জুলাই ২০২৬ , সকাল ০৬:১০।। প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার , ১৪ জুলাই ২০২৬ , ভোর ০৪:০৯

ডিম কুড়াতে গিয়ে মর্মান্তিক প্রাণহানি: ভাঙ্গায় বাসচাপায় নিহত ৭, বিক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল বাস-পিকআপ


স্টাফ রিপোর্টার: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে উল্টে পড়া একটি ডিমবোঝাই পিকআপ থেকে ছড়িয়ে পড়া ডিম কুড়াতে গিয়ে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসসহ কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দিলে মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের শুয়াদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল ৫টার দিকে খুলনাগামী একটি ডিমবোঝাই পিকআপের চাকা ফেটে মহাসড়কে উল্টে যায়। এতে পিকআপে থাকা বিপুল পরিমাণ ডিম সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় অনেক মানুষ ডিম কুড়াতে মহাসড়কে ভিড় করেন। এ সময় পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা খুলনাগামী নড়াইল এক্সপ্রেস নামের একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের চাপা দেয়।

ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। গুরুতর আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।

নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তারা হলেন— ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোয়াদী গ্রামের লিটন হোসেনের ছেলে জয়নাল হোসেন (৩০), আঞ্জু শেখের ছেলে ওবায়দুর শেখ (৪৫), বাবলু মিয়ার ছেলে আরিফ মিয়া (৪২), নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামের কুদ্দুস মাতুব্বরের ছেলে হাফিজুল মাতুব্বর (২৮) এবং বরগুনা সদর উপজেলার কোটবাড়িয়া ইউনিয়নের তুলশীবাড়িয়া গ্রামের সেলিম খানের ছেলে জালাল খান (৩৬)। বাকি দুইজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের নাদিম জানান, হাসপাতালে আনার পর আরও তিনজন মারা যান। আহত কয়েকজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে আরও তিনটি বাস ও একটি পিকআপে আগুন দেওয়া হয়। এতে ঘাতক বাস ও একটি পিকআপ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

আগুন ও বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের উভয় দিকে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে যান চলাচল পুনরায় চালু করে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “এ পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলে এবং তিনজন হাসপাতালে মারা গেছেন। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”