প্রকাশিত : বৃহঃস্পতিবার , ১৬ জুলাই ২০২৬ , রাত ০৮:৫২।। প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার , ২৮ জুলাই ২০২৬ , সন্ধ্যা ০৭:২১

সেমিফাইনালে নেমেই ইতিহাস গড়লেন মেসি, ভাঙলেন ৬৮ বছরের পুরোনো রেকর্ড


স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দিতে নেমেই ইতিহাস গড়লেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মাঠে নেমে তিনি ভেঙে দিলেন ৬৮ বছরের পুরোনো এক রেকর্ড। একই সঙ্গে তার অনবদ্য পারফরম্যান্সে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারায় লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচের শেষদিকে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে নাটকীয় জয় তুলে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। দুটি গোলেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মেসি। প্রথম গোলের আগে শর্ট কর্নার থেকে এনজোকে বল বাড়িয়ে দেন তিনি, আর যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেজের জয়সূচক হেডের জন্য নিখুঁত ক্রসও আসে তার পা থেকেই।

এই ম্যাচে মাঠে নামার সময় মেসির বয়স ছিল ৩৯ বছর ২১ দিন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলা ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক আউটফিল্ড ফুটবলার হওয়ার কীর্তি গড়েন।

এর আগে রেকর্ডটি যৌথভাবে ছিল জার্মানির ফ্রিৎস ভাল্টার এবং সুইডেনের গুনার গ্রেনের দখলে। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে দুজনেরই বয়স ছিল ৩৭ বছর ২৩৬ দিন। প্রায় সাত দশক ধরে অক্ষত থাকা সেই রেকর্ড এবার নিজের করে নিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

বিশ্বকাপে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন মেসি। সর্বাধিক বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলা, বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা, পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার পাশাপাশি পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট করার মতো অসংখ্য কীর্তির সঙ্গে এবার যুক্ত হলো আরেকটি অনন্য মাইলফলক।

শুধু রেকর্ড গড়েই থেমে থাকেননি মেসি। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন তিনি। তার দুই অ্যাসিস্টেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

এখন মেসির সামনে আরও একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। ফাইনালে জয় পেলে ২০২২ সালের পর টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরবেন ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি।