প্রিন্ট ভিউ
স্টাফ রিপোর্টার: ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত নির্মল দাসের ছেলে সুজন দাস (৩৯) টাকার অভাবে কোলন ক্যান্সারের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছেন না। জীবন বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দানশীল প্রতিষ্ঠান ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি ও তাঁর পরিবার।
সুজন দাস একসময় কলা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে স্থানীয় একটি চালকলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। স্ত্রী মিতা রানী দাস, এক মেয়ে ও দুই ছোট ছেলেকে নিয়ে চলছিল তাঁর সংসার। বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে দুই ছেলের বয়স যথাক্রমে ১০ ও ৭ বছর।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬-৭ মাস আগে সুজন দাস গ্যাস্ট্রিক আলসারে আক্রান্ত হন। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বায়োপসির মাধ্যমে তাঁর কোলন ক্যান্সার ধরা পড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শে অস্ত্রোপচার করে মলত্যাগের পথ পেটের বাইরে বের করে (স্টোমা) দেওয়া হয়।
বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টাকার ওষুধ প্রয়োজন হয়। এছাড়া সপ্তাহে একবার ১,৫০০ টাকা মূল্যের স্টোমা ব্যাগ পরিবর্তন করতে হয়। অস্ত্রোপচারের খরচ জোগাতে বাবার রেখে যাওয়া ৩ শতাংশ জমির মধ্যে ২ শতাংশ বিক্রি করে দিয়েছেন। কিন্তু চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এখন আরও ৭টি কেমোথেরাপি নিতে হবে, যার জন্য আনুমানিক ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা প্রয়োজন।
অসুস্থ হওয়ার পর থেকে সুজন আর কোনো কাজ করতে পারেন না। লাঠিতে ভর করে ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে যা সামান্য সাহায্য পান, তা দিয়েই কোনোমতে ওষুধ কেনেন। কিন্তু সংসার চালানো, পুষ্টিকর খাবার এবং চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
দারিদ্র্যের নির্মম চিত্র ফুটে উঠেছে তাঁর বসতঘরেও। ছোট্ট টিনের ছাপড়া ঘরটি জরাজীর্ণ। ছাউনি ফুটো হয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। তাই বৃষ্টির পানি ঠেকাতে ঘরের চালের ওপর ত্রিপল টানিয়ে রাখা হয়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুজন দাস বলেন, সুস্থ অবস্থায় পরিশ্রম করে সংসার চালিয়েছি। মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ভালোই ছিলাম। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জানতে পারলাম আমার ক্যান্সার হয়েছে। এখন শরীরে মলের ব্যাগ লাগিয়ে বেঁচে আছি। প্রতি সপ্তাহে ব্যাগ পরিবর্তন করতে হয়, প্রতিদিন ওষুধ লাগে। আমার আর কোনো জমিজমা বা সঞ্চয় নেই। সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, আমাকে একটু সাহায্য করুন। আমি বাঁচতে চাই, আমার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই।
স্থানীয়রা জানান, সুজন ও তাঁর স্ত্রী দুজনেই চালকলে কাজ করতেন। অসুস্থ হওয়ার পর পরিবারটি চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। এলাকার মানুষ নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করলেও ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য তা যথেষ্ট নয়।
সুজনের স্ত্রী মিতা রানী দাস বলেন,স্বামীর চিকিৎসার জন্য বসতভিটার ৩ শতাংশ জমির মধ্যে ২ শতাংশ বিক্রি করেছি। ধারদেনাও করেছি। এখন কেমোথেরাপি, ওষুধ ও সংসারের খরচ চালাতে পারছি না। অনেক দিন ওষুধও কিনতে পারি না। সমাজের বিত্তবান মানুষদের কাছে আমার আকুল আবেদন, আমার স্বামীর জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরে আবেদন করলে তাঁকে সরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
ক্যান্সারের মতো ব্যয়বহুল রোগের সঙ্গে লড়াই করা সুজন দাস এখন সমাজের সহানুভূতি ও মানবিক সহযোগিতার অপেক্ষায়। সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে তিনি আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন—এমন আশাই করছেন তাঁর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।