প্রিন্ট ভিউ
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফুচকা খাওয়ার সময় উচ্চস্বরে হাসাহাসিকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথা-কাটাকাটি, পরে হাতাহাতি এবং একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গুরুতর আহতরা হলেন বোয়ালমারী পৌরসভার দক্ষিণ কামারগ্রামের সেলিম শেখের ছেলে হৃত্বিক শেখ (২১) ও একই এলাকার মনিরুল ইসলামের ছেলে কাকন (২০)। হৃত্বিকের পেটে ছুরিকাঘাত এবং কাকনের মাথায় আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পার্কের সামনে একটি ফুচকা-চটপটির দোকানে হৃত্বিক শেখ ও কাকনসহ ১০-১২ জন এবং আনাম, মেহেদী ও সাগরসহ ১২-১৩ জনের আরেকটি দল বসে ফুচকা-চটপটি খাচ্ছিল। এ সময় দ্বিতীয় পক্ষের কয়েকজনকে উচ্চস্বরে হাসাহাসি করতে দেখে হৃত্বিকদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও থাপ্পড়ের ঘটনা ঘটে। পরে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় হৃত্বিকের পেটে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং কাকনের মাথায় আঘাত লাগে। অপর পক্ষের আরও কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পরে আহতদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে হৃত্বিক ও কাকন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে হাসপাতালে তাঁদের বক্তব্য ও ভিডিও নিতে গেলে তাঁরা সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।
ঘটনার পর বোয়ালমারী পৌর এলাকায় কিশোরদের দলবদ্ধ আড্ডা ও বেপরোয়া আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তাঁদের দাবি, বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পৌর বাজার ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের দলবদ্ধ আড্ডা দেখা যায়। এসব আড্ডাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় বিরোধ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও মাদকের বিস্তার ঘটছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বোয়ালমারী সরকারি কলেজের পুকুরঘাট, অডিটোরিয়ামের পূর্বপাশ, গরুহাটা, মহিলা কলেজের সামনে, পরিত্যক্ত পৌর বাস টার্মিনাল, স্টেডিয়াম মাঠ, রেলস্টেশন, শিবপুর রেলগেট, ঠাকুরপুর বাজার, গুনবহা তালতলা বাজারের আশপাশ এবং দিনের বেলায় কাজী হারুন মার্কেটের সামনেসহ বিভিন্ন স্থানে কিশোরদের আড্ডা বসে।
সচেতন মহলের আশঙ্কা, এসব দলবদ্ধ আড্ডা ও বেপরোয়া চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ছোটখাটো বিরোধও যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। তাই অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে কিশোরদের মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ বা পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজিব আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, ফুচকা খাওয়ার সময় উচ্চস্বরে হাসাহাসিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে তর্কাতর্কি এবং পরে মারামারি হয়। এ ঘটনায় হৃত্বিক ও কাকন নামে দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। ফুচকা খাওয়ার সময় হাসাহাসিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কোনো পক্ষ এখনো অভিযোগ দেয়নি। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিপথগামীদের আইনের আওতায় এনে আদালতের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।