প্রিন্ট ভিউ
স্টাফ রিপোর্টার: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের বনচাকী-রামচন্দ্র গ্রামের মাঝকান্দি–ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত লাশের পরিচয় মিলেছে। নিহত ব্যক্তি কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গোয়ালমারী ইউনিয়নের উত্তরটিলি গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে ইব্রাহিম (৩৫)। তিনি ঢাকায় ডাব ও বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল ব্যবসা করতেন।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ইব্রাহিম তার চাচাতো ভাই ও একই গ্রামের পিকআপ চালক মো. হোসেনের গাড়ি ভাড়া করে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া এলাকায় একটি খাবার হোটেলে তারা খাওয়ার জন্য থামেন।
খাবার শেষে বিল পরিশোধ করতে গেলে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি এসে ইব্রাহিম ও হোসেনকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে নেয়। গাড়িতে তোলার পর তাদের হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। কিছুক্ষণ পর দুর্বৃত্তরা পিকআপ চালক হোসেনকে মারধর করে রাস্তার পাশে ফেলে যায়, কিন্তু ইব্রাহিমকে নিয়ে অজ্ঞাতস্থানে চলে যায়।
ভোরে নামাজে যাওয়ার পথে স্থানীয়রা আহত হোসেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে সুস্থ হয়ে সে ঢাকায় গিয়ে ইব্রাহিমের পরিবারকে ঘটনা জানায়।
শনিবার বিকেলে বোয়ালমারী থানা পুলিশ চতুল ইউনিয়নের বনচাকী রাস্তার পাশ থেকে ইব্রাহিমের লাশ উদ্ধার করে। পরদিন রবিবার নিহতের ভাই ফরহাদ মোল্যা বোয়ালমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পিকআপ চালক মো. হোসেন বলেন, “আমি ও ইব্রাহিম ভাই একই গ্রামের বাসিন্দা। সে সম্পর্কে আমার চাচাতো ভাই। আমাকে নিয়ে তিনি ডাব ও কাঁচামাল কিনতে গোপালগঞ্জে উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথেমধ্যে ভাটিয়াপাড়া এলাকার একটি হোটেলে বসে আমরা খাবার খাই। কিছু লোক ডিবি পোশাক পড়ে আমাদের ছবি তুলে নেয়। এরপর হোটেল থেকে বের হলেই আমাদের তারা প্রাইভেটকারে উঠিয়ে হাত পা বেঁধে ফেলে। পরে আমাকে বেদম মারপিট করে। রাস্তার পাশে ফেলে রাখে। এসময় ইব্রাহিমকে প্রাইভেটকারে করে নিয়ে যায়। ভোরে লোকজন নামাজ পড়তে বের হলে, আমাকে দেখে তারা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে আমি পিকআপ নিয়ে ঢাকায় গিয়ে ইব্রাহিমের বাড়িতে খোঁজ দেয়।”
নিহতের ভাই ফরহাদ মোল্যা বলেন, “আমার বড় ভাই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ডাব ও কাঁচামাল সংগ্রহ করে ঢাকায় বিক্রি করতেন। ডিবি পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা বিচার চাই। যারা আমার ভাইকে মেরে রাস্তার পাশে ফেলে গেছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তি চাই। যেন আর কোনো ভাই, বাবা, স্বামী বা ছেলে এমনভাবে মারা না যায়।” তিনি আরো বলেন, “যে হোটেলে তারা খাবার খেয়ে ছিলেন সেই হোটেলের সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করলে অপরাধীদের সনাক্ত করতে সহজ হবে।”
বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক শিমুল বলেন, “শনিবার বিকেলে লাশ উদ্ধার করে রোববার পোস্টমর্টেমের জন্য ফরিদপুরে পাঠানো হয়েছে। নিহতের ভাইয়ের দায়ের করা হত্যা মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। ইব্রাহিম হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।”