প্রিন্ট ভিউ
নিজেস্ব প্রতিবেদক : আরও একটি অগ্নিগর্ভ রাত সাক্ষী থাকল রক্তঝরা ইতিহাসের। নিভে গেল এক সাহসী কণ্ঠ, থেমে গেল এক প্রতিবাদী হৃদস্পন্দন। জুলাই বিপ্লবের সাহসী যোদ্ধা ওসমান হাদি আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার ভাই ওমর হাদি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসমান হাদির মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেমে আসে শোকের কালো ছায়া। সহযোদ্ধা, বন্ধু, শুভানুধ্যায়ী এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষ শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েন। চোখের জলে ভিজে ওঠে রাজপথের স্মৃতি—যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ওসমান হাদি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ও ইনকিলাব মঞ্চ নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা বৃহস্পতিবার রাতে এক শোকাহত ফেসবুক পোস্টে লেখেন,
“ভারতীয় আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় আল্লাহ মহান জুলাই বিপ্লবী ওসমান হাদীকে শহিদ হিসেবে কবুল করেছেন।”
একই সুরে ওসমান হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজেও প্রকাশ করা হয় হৃদয়বিদারক বার্তা। সেখানে লেখা হয়,
“ভারতীয় আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় মহান বিপ্লবী ওসমান হাদিকে আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন।”
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা অবস্থায় অতর্কিত হামলার শিকার হন ওসমান হাদি। মোটরসাইকেল আরোহী সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি।
গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে একাধিক অস্ত্রোপচার হলেও অবস্থার সংকট কাটেনি। পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেও আশার আলো না জ্বলে উঠলে শেষ আশ্রয় হিসেবে সোমবার তাকে পাঠানো হয় সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে। জীবন-মৃত্যুর কঠিন লড়াই চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাতে পরাজিত হয় শরীর—কিন্তু হার মানেনি তার আদর্শ।
ওসমান হাদির শাহাদাতে দেশ হারাল এক নির্ভীক সন্তান, আর জুলাই বিপ্লব হারাল এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার রক্ত যেন নতুন করে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে—এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে কবে? কারা দায়ী এই নৃশংসতার জন্য?
সহযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি জড়িত সকল ঘাতকের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ওসমান হাদি নেই, কিন্তু তার স্বপ্ন, তার প্রতিবাদ আর তার রক্তে লেখা লড়াই—থেমে থাকবে না।