• ঢাকা
  • বৃহঃস্পতিবার , ২২ জানুয়ারী ২০২৬ , রাত ১০:৩২
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

বোয়ালমারীর গৃহবধূর লাশ হাত বাঁধা অবস্থায় সদরপুর থেকে উদ্ধার, ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

রিপোর্টার : শারমিন আক্তার
বোয়ালমারীর গৃহবধূর লাশ হাত বাঁধা অবস্থায় সদরপুর থেকে উদ্ধার, ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ প্রিন্ট ভিউ

স্টাফ রিপোর্টার : ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত এক নারীর লাশের পরিচয় মিলেছে। নিহত ওই নারী বোয়ালমারী উপজেলার সোতাশী চরপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক মো. তুহিন মন্ডলের স্ত্রী রুমা বেগম (২৫)। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সদরপুর থানার পুলিশ হাত বাঁধা ও বিবস্ত্র অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে। পরদিন শনিবার বোয়ালমারী থানা পুলিশের মাধ্যমে নিহতের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রুমা বেগম গত রোববার (১৪ ডিসেম্বর) তার বাবার বাড়ি বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের ইচাখালী গ্রামে বেড়াতে যান। সেখান থেকে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে বের হলেও এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো খোঁজ মেলেনি।

নিহতের স্বামী মো. তুহিন মন্ডল বলেন,“২০২১ সালে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর আমার স্ত্রীর মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। চিকিৎসা করানো হলেও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। রোববার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যায়, এরপর সোমবার বের হয়ে আর ফেরেনি। পরে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি তার লাশ উদ্ধার হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, লাশ বাড়িতে আনার পর গোসল করাতে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের ছ্যাঁকা দাগ দেখতে পান স্বজনরা। এতে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে নির্যাতনের পর হাত বেঁধে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

নিহতের বাবা বারিক শেখ বলেন, “আমার মেয়ের মাথায় একটু সমস্যা ছিল। সে কারও ক্ষতি করার মতো মেয়ে না। যারা আমার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, “লাশটি সদরপুর থানার আওতাধীন এলাকায় উদ্ধার করা হয়েছে। সেখান থেকেই সুরতহাল ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর পরিবার লাশ গ্রহণ করেছে। মামলা সদরপুর থানায় দায়ের হয়েছে।”

সদরপুর থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, “খবর পেয়ে আমরা হাত বাঁধা ও বিবস্ত্র অবস্থায় লাশ উদ্ধার করি। প্রাথমিক সুরতহালে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। শনিবার নিহতের স্বামী মো. তুহিন মন্ডল একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর-১১। ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।”

এদিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জাতীয়

সারাদেশ

মৃত্যু

ধর্ষন

আরও পড়ুন