প্রিন্ট ভিউ
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় আরএফএল কোম্পানির ইলেকট্রিক পণ্যের এক বিক্রয়কর্মীর ভাড়া বাসায় চুরির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নগদ অর্থসহ প্রায় ২ লাখ টাকার মালামাল খোয়া গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায়, বোয়ালমারী পৌরসভার কামারগ্রাম এলাকায়। ভুক্তভোগী মো. জিহাদ ওই এলাকার হাজেরা বেগমের মালিকানাধীন একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। তিনি এ ঘটনায় বোয়ালমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী জিহাদ জানান, ঘটনার দিন মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে তিনি পৌরবাজারে অবস্থিত তার ডিলার পয়েন্টে যান। প্রায় এক ঘণ্টা পর বাসায় ফিরে তিনি দেখতে পান, রুমের সদর দরজায় কোনো তালা নেই এবং ভেতর দিক থেকে আটকানো। পরে পেছনের দরজা খোলা অবস্থায় পান, যা তিনি কখনো ব্যবহার করেননি। ঘরের ভেতরে ঢুকে দেখেন, তার ব্যবহৃত প্রায় সব মালামাল চুরি হয়ে গেছে।
চুরি যাওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে— একটি এলইডি টিভি, ইলেকট্রিক বক্স, ক্লিক ব্র্যান্ডের ৫৬ ইঞ্চি সিলিং ফ্যান ১৪টি, ১৮ ইঞ্চি স্ট্যান্ড ফ্যান ৮টি, নগদ ১৪ হাজার টাকা, থালা-বাসন, গ্যাসের চুলা ও গ্যাস সিলিন্ডার।
এ বিষয়ে বাড়ির মালিক হাজেরা বেগম বলেন,“আমি আমার মেয়ের বাসায় থাকি। তার বাসা চৌরাস্তা স্টেডিয়াম রোড সংলগ্ন আরিফ বেকারীর সামনে একটি বিল্ডিংয়ে। ঘটনার দিন মাগরিবের পর বাড়িতে গিয়ে দেখি জিহাদ মামার ঘর বন্ধ। অনেক ডাকাডাকি করি। এর মধ্যেই সে বাসায় চলে আসে। চুরির বিষয়টি আমি বলতে পারি না। তবে তার সঙ্গে গিয়ে দেখি তার ঘরের সব মালামাল চুরি হয়ে গেছে।”
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী জিহাদ অভিযোগ করে বলেন,“আমার বাসার মালিক কিছুদিন আগে আমার রুমের চাবি নিয়েছিলেন। আমার সন্দেহ, তিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”
এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরীফ আব্দুর রশিদ বলেন,“ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, অভিযোগ দায়েরের চার দিন পর ১৯ ডিসেম্বর রাতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা হয়নি।