• ঢাকা
  • বৃহঃস্পতিবার , ২২ জানুয়ারী ২০২৬ , রাত ১০:১৭
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

হালি পেঁয়াজ রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে সালথার চাষিরা

রিপোর্টার : মো. নাজমুল হাচান
হালি পেঁয়াজ রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে সালথার চাষিরা প্রিন্ট ভিউ

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: পাট পেঁয়াজের রাজধানী খ্যাত ফরিদপুরের সালথা উপজেলা। চলছে পেঁয়াজ রোপণের মৌসুম, কৃষাণ কৃষাণীদের জন্য শুরু হয়েছে এক মহা কর্মযজ্ঞ। মৌসুমে মোট আবাদি জমির প্রায় ৯০/৯৫ ভাগ জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। এখানে উৎপাদিত পেঁয়াজ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। তীব্র শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হালি পেঁয়াজ রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। অনেকেই আবার মুড়িকাটা পেঁয়াজ উত্তোলন ও পক্রিয়া করনে ব্যস্ত। মোট কথা পেঁয়াজ মৌসুমে পেঁয়াজ নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করেন এখানকার প্রায় চল্লিশ হাজার পেঁয়াজ চাষি পরিবার। তবে সারের কৃত্রিম সংকট ও দাম বৃদ্ধি, শ্রম ও বীজের দাম চড়া হওয়ায় বিপাকে রয়েছেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট আবাদি জমি প্রায় ১৪ হাজার ৯৫০ হেক্টর। গত বছর ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়। চলতি মৌসুমে ১১ হাজার ২৪০ হেক্টরের জমিতে পেঁয়াজের চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হবে। উপজেলায় লাল তীর কিং, তাহেরপুরী, ফরিদপুরী, বারি-১, সুলতান, লালতীর হাইব্রিড, সম্রাট, ক্রসএস-৮০, রঙ্গিলা-৭, সহ বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজ রোপণ করা হচ্ছে। এবছর চাহিদা বেড়েছে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ বীজ। উপজেলার প্রায় ৮০০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিকে কৃষি প্রণোদনার আওতায় পেঁয়াজ বীজ ও রাসায়নিক স্যার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও একঝাক দক্ষ উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মাঠ পর্যায়ে সেবা প্রদান করছে।

উপজেলার কয়েকজন পেঁয়াজ চাষির সাথে কথা হলে তারা জানায়, চলতি পেঁয়াজ মৌসুমে গতবছরের তুলনায় বেশি পরিমানে পেঁয়াজের আবাদ করছে। ডিলাররা সিন্ডিকেট তৈরী করে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরী করছে, এতে বেশি দামে সার ক্রয় করতে হচ্ছে। তাছাড়া বীজ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে পেঁয়াজের দাম ২৫০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা রাখার দাবি জানায় তারা। তাছাড়া পেঁয়াাজের বীজ ও রাসায়নিক সারের দাম কমানো ও সারের পর্যাপ্ত মজুদের কথা বলেন কেউ কেউ। পেঁয়াজ চাষে প্রণোদনা বৃদ্ধি ও পেঁয়াজ চাষিদের স্বল্প মুনাফাতে কৃষি ঋণ প্রদানের দাবি জানান অনেকেই।

মৌসুমের মাঝামাঝি থেকে শেষ সময়ে পেঁয়াজ চলে যায় মজুতদারের হাতে, তখন দাম বাড়লে কৃষকের কোন উপকার হয় না। তাছাড়া পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগাড় না থাকার কারনে অনেকের পেয়াজ অল্পতেই পঁচে যায়। তাই বেশি বেশি পেঁয়াজ সংরক্ষণাগারের কথা তুলে ধরেন অনেকেই। বীজের অতিরিক্ত দামের কারনেও অনেকেই চারা উৎপাদন করতে পারেন না, সেক্ষেত্রে উচ্চ মূল্যে তাদের হালি পেঁয়াজ কিনে রোপন করতে হয়। পরিবহনের কারনে অনেক সময় হালি পেঁয়াজ নষ্ট হয়, উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়ে। ফরিয়া ও ব্যাপারীরাও পেঁয়াজ চাষিদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে। এমন চলতে থাকলে পেঁয়াজ চাষে কৃষক মূখ ফিরিয়ে নিবেন বলে জানান। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদর্শন সিকদার বলেন, পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা যাতে সঠিকভাবে অর্জিত হয় সেজন্য সরকার কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮০০ জন কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। গত মৌসুমে ২৯০০ জনকে এই প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল। পেঁয়াজ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ চাষ লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি পেঁয়াজ সংরক্ষনাগারের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষেকে জানানো হবে।

জাতীয়

অর্থনীতি

সারাদেশ

আরও পড়ুন