• ঢাকা
  • বৃহঃস্পতিবার , ২২ জানুয়ারী ২০২৬ , রাত ১০:১৫
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

বাংলাদেশের হৃদয় ম্লান: বিদায় নিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া

রিপোর্টার : রবিউল ইসলাম রুবেল
বাংলাদেশের হৃদয় ম্লান: বিদায় নিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রিন্ট ভিউ

এস এম রবিউল ইসলাম রুবেল : আজ ভোরে, ৮০ বছরের কণ্ঠশক্তি, দৃঢ় নীরবতা ও অকৃত্রিম দেশভক্তি নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া চির নিদ্রায় শুয়ে গেলেন। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশের প্রতিটি প্রান্তে নেমে আসে শোকের অম্লান ছায়া।

রাজপথ, হাসপাতালের প্রাঙ্গণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই চোখে অশ্রু, কণ্ঠে নীরবতা। সকাল ৬টা থেকেই হাসপাতালের সামনে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন। কেউ কাঁদছেন, কেউ ভেঙে পড়েছেন—দীর্ঘ অসুস্থতার পর প্রিয় নেত্রীর বিদায় মেনে নেওয়া যেন অসম্ভব। নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ষাটোর্ধ্ব জালাল উদ্দিন বলতে পারেন,

“আমি শুধু একবার দেখতে চেয়েছিলাম আমার নেত্রীকে, জীবনেও আর এমন নেত্রী দেখব না।”

রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,

“বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক অম্লান প্রতিভা। গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, বহুদলীয় রাজনীতির পাথেয়—এমন একজন নেত্রীর অবদান চিরকাল অমর। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তার আপসহীন নেতৃত্ব জাতিকে বারবার পথ দেখিয়েছে।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা কালো প্রোফাইল ছবি বা বেগম খালেদা জিয়ার ছবি পোস্ট করে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম লিখেছেন,

“ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক খালেদা জিয়াকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতারাও লিখেছেন,

“রাজনীতি করতে করতে নিজের সন্তান হারিয়েছেন, স্বামী হারিয়েছেন, তবু দেশ ত্যাগ করেননি। চির বিদায় হে দেশনেত্রী। আমাদের শেখার অনেক কিছু রয়ে গেছে আপনার কাছ থেকে।”

সাংস্কৃতিক অঙ্গন, ক্রীড়াঙ্গন, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সর্বস্তরের মানুষও শোক প্রকাশ করছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল লিখেছেন,

“তাঁর প্রয়াণে দেশ হারাল এক দৃঢ় নেতৃত্বের প্রতীক। আল্লাহ তাঁর রূহের মাগফিরাত দান করুন।”

ফেনী, বগুড়া, সিলেট—দেশের প্রতিটি প্রান্তে মানুষের হৃদয় ভারাক্রান্ত। মসজিদ ও মাদ্রাসায় বিশেষ দোয়া, শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারেও তাঁর রূহের শান্তি কামনা করা হয়েছে।

জীবনের শেষ মুহূর্তে বেগম খালেদা জিয়ার পাশে ছিলেন তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মায়ের বিদায়ে তারেক রহমানের চোখের জল দেশবাসীর হৃদয়কে গভীরভাবে নাড়িয়েছে।

পারিবারিক ও দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে সমাহিত করা হবে শেরেবাংলা নগরে, স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে।

গণতন্ত্রের মা, দেশের এক অক্লান্ত রক্ষিকা—বেগম খালেদা জিয়ার বিদায়ে যে শোকের ছায়া নেমেছে, তা চিরকাল বাংলাদেশের হৃদয়ে অম্লান থাকবে।

জাতীয়

সারাদেশ

মৃত্যু

আরও পড়ুন