প্রিন্ট ভিউ
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় এক ইউপি সদস্য ও তাঁর পরিবারের জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ময়না ইউনিয়নের হাটখোলারচর গ্রামের ইউপি সদস্য মো. সোহেল রানা ও তাঁর ভাই ইকরাম শেখের মালিকানাধীন জমি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার ইব্রাহিম ওরফে জিল্লু শেখের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, খরসূতি মৌজার ৮৩৭ নম্বর খতিয়ানের ১৫৭১ নম্বর দাগভুক্ত মোট ৪০ শতাংশ জমির মূল মালিক ছিলেন হাটখোলারচর গ্রামের বাসিন্দা মৌন্তাজ শেখ। সময়ের প্রয়োজনে তিনি বিভিন্ন সময়ে ওই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন।
২০১৮ সালে জমির একটি অংশ আজগর ও তাহেরের কাছে বিক্রি করার পর, পর্যায়ক্রমে পুরো ৪০ শতাংশ জমি বিভিন্ন ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০২১ সালে জমির পশ্চিম পাশের উত্তর-দক্ষিণ অংশের ১০ শতাংশ জমি দলিলমূলে বিক্রি করা হয় রাফসান শেখের নামে। রাফসানের বয়স কম থাকায় আদালতের অনুমতি নিয়ে পরবর্তীতে ওই জমি ইউপি সদস্য সোহেল রানা ও তাঁর ভাই ইকরাম শেখ ক্রয় করেন।
এছাড়া সোহেল রানা নিজে মৌন্তাজ শেখের কাছ থেকে ৩ শতাংশ এবং তাঁর ভাই ইকরাম শেখ ১ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। অন্যদিকে ২০২৪ সালে মৌন্তাজ শেখ একই দাগভুক্ত জমির ১১ শতাংশ বিক্রি করেন ইব্রাহিম শেখ (জিল্লু)-এর কাছে। পরে কুলসুম বেগম নামের এক নারীর কাছ থেকেও আরও ৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন ইব্রাহিম। সব মিলিয়ে ইব্রাহিম শেখের নামে মোট ১৮ শতাংশ জমি রয়েছে বলে জানা গেছে।
কাগজপত্র অনুযায়ী, সোহেল রানা ও তাঁর ভাই ইকরাম শেখের নামে মোট ১৭ শতাংশ জমির মালিকানা রয়েছে। জমির চৌহদ্দি নির্ধারণ ও মিউটেশনও সম্পন্ন হয়েছে।
তবে অভিযোগ উঠেছে, জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ চলমান থাকা সত্ত্বেও এবং এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকা অবস্থায়, গত ২৮ ডিসেম্বর ভোরে ইব্রাহিম শেখ লোকজন নিয়ে এসে জোরপূর্বক ইউপি সদস্যের জমি দখল করে সেখানে টিনের বেড়া স্থাপন করেন। এ সময় প্রাণভয়ে সোহেল রানা ও তাঁর ভাই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ।
ইউপি সদস্য মো. সোহেল রানা বলেন, “অনেক কষ্ট করে আমি আর আমার ভাই এই জমি কিনেছি। কাগজে-কলমে যার যতটুকু জমি আছে, সে ততটুকুতেই ভোগ দখল করুক। জোর করে অন্যের জমি দখল করা কোন আইনে পড়ে? ১৪৪ ধারা জারি থাকার পরও লোকজন এনে জমি ঘিরে ফেলা হয়েছে। এটা কি মগের মুল্লুক? আমরা মারামারি চাই না, শান্তিতে থাকতে চাই।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত ইব্রাহিম শেখ (জিল্লু) মুঠোফোনে দাবি করেন, “ওই জমি আমি বৈধভাবে ক্রয় করেছি। জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে। আমি কারও ওপর জোর করিনি। আমার জমি আমি ঘিরে রেখেছি।”
ঘটনাটি এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে জমি দখলের ঘটনা প্রশাসনের জন্য উদ্বেগজনক। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।