প্রিন্ট ভিউ
স্টাফ রিপোর্টার: ভাঙা ঘরের টিন, ছিন্নবস্ত্র, আতঙ্কে কাঁপা শিশু ও বয়োবৃদ্ধা ময়েনদিয়া খাড়াপাড়া ও পরমেশ্বরদীর চরপাড়ায় হামলার পর এমনই বেদনাবিধুর দৃশ্য। সেই ক্ষতবিক্ষত জনপদের মাঝেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ালেন ড. ইলিয়াস মোল্লা।
রোববার দুপুরে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দেন-ফরিদপুর-১ আসনের তিন উপজেলার মানুষ যেন শান্তিতে ও নিরাপদে থাকতে পারে, সেজন্য যত কঠোর হওয়া লাগে আমি হবো। আমার আওতাধীন কোনো মানুষ অনিরাপদ থাকবে না।
হামলার বিবরণ শুনে তিনি ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন-বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট মানবতাবিরোধী, নিষ্ঠুর ও ন্যাক্কারজনক কাজ। যারা এমন বর্বরতা করেছে, তারা তখন মানুষ ছিল না। পশুত্ব না থাকলে কেউ এভাবে নিরীহ মানুষের ওপর হামলা করতে পারে না।
তিনি আরও স্পষ্ট বার্তা দেন-এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির কোনো স্থান হবে না।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপনারা সোচ্চার হোন। ভয় পাবেন না। অপরাধীদের রুখে দাঁড়ান, পুলিশে দিন। আমরা সহিংসতা চাই না, কিন্তু অন্যায়ও সহ্য করবো না। স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এমপি বলেন, দুই পক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করবো। কেউ যদি আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে চায়, তাহলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শান্তি নষ্টের চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এ সময় তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-১ আসনের সদস্য সচিব মাওলানা মোঃ শহিদুল ইসলাম, বোয়ালমারী উপজেলা জামায়াতের আমীর হাফেজ মাওলানা বিলাল হোসাইন, উপজেলা সেক্রেটারি মোঃ কামাল উদ্দিন, বোয়ালমারী পৌরসভা আমীর মাওলানা সৈয়দ নিয়ামুল হাসান, সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা সৈয়দ সাজ্জাদ আলী, কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য মাওলানা মোঃ রফিকুল ইসলাম, যুব বিভাগের সভাপতি মুশফিকুর রহমানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর চোখে ছিল নিরাপত্তার আকুতি, ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা। এমপির আশ্বাসে কিছুটা ভরসা মিললেও এলাকায় এখনো বিরাজ করছে চাপা উৎকণ্ঠা।
ভাঙা ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি-ফরিদপুর-১ এর মানুষ ভয়ে নয়, নিরাপত্তায় বাঁচবে-এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।