• ঢাকা
  • বৃহঃস্পতিবার , ৬ আগস্ট ২০২৬ , ভোর ০৪:০১
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

বোয়ালমারীতে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারির আবেদন ঘিরে জামায়াত নেতার সুপারিশপত্র ভাইরাল, রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়

রিপোর্টার : স্টাফ রিপোর্টার
বোয়ালমারীতে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারির আবেদন ঘিরে জামায়াত নেতার সুপারিশপত্র ভাইরাল, রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় প্রিন্ট ভিউ

স্টাফ রিপোর্টার: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির শুমারিতে তথ্য সংগ্রহকারীর আবেদনকে কেন্দ্র করে এক জামায়াত নেতার সুপারিশসংবলিত আবেদনপত্রের একটি ফটোকপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার সকাল থেকেই আবেদনপত্রটির ছবি ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হতে থাকে। এরপর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

ভাইরাল হওয়া আবেদনপত্রে দেখা যায়, আবেদনকারী বোয়ালমারী উপজেলার গুণবহা ইউনিয়নের ধোপাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুর রউফের ছেলে মো. আব্বাছ। আবেদনপত্রে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীরের সুপারিশও রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মো. আব্বাছ জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। পাশাপাশি তিনি বর্তমানে বোয়ালমারীর একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এমন একজন রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তির ফ্যামিলি কার্ডের শুমারিতে তথ্য সংগ্রহকারীর পদে আবেদন এবং সুপারিশপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে মন্তব্য করছেন, অতীতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্য থেকেই এখন শুমারির কাজে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। 

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা বলেন, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন ঘরে ঘরে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দেন, তখন জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব এর বিরোধিতা করেছিল। অথচ এখন তাদের নেতাকর্মীরাই শুমারির দায়িত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করছেন। আমরা মনে করি, এ ধরনের কাজে কোনো রাজনৈতিক সুপারিশ গ্রহণ করা উচিত নয়। যাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও যোগ্যতা রয়েছে, তারাই যেন নিয়োগ পান। এমনকি আমাদের দলের কেউ সুপারিশ করলেও সেটিও বিবেচনায় না নেওয়াই উচিত।

অভিযোগের বিষয়ে আবেদনকারী মো. আব্বাছের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বোয়ালমারী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মু. বিলাল হোসাইন বর্তমানে ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। হোয়াটসঅ্যাপে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সংক্ষিপ্ত জবাবে বলেন, এ বিষয়ে আব্বাছের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

অন্যদিকে, পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমীর সৈয়দ নিয়ামুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিষয়টি নিয়ে বোয়ালমারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কারিজুল ইসলাম বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি কার্যক্রমের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিয়োগসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত তার নেতৃত্বেই নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান বলেন, সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে অনেক প্রার্থী আবেদন করেছেন। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী আবেদন যাচাই-বাছাই ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে সম্পূর্ণ যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হবে। আগামী ২ আগস্ট (রোববার) থেকে ভাইভা শুরু হয়ে ৪ আগস্ট (মঙ্গলবার) পর্যন্ত চলবে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির শুমারির আবেদনপত্রে কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা বা জনপ্রতিনিধির সুপারিশের সুযোগ নেই। কেউ যদি এ ধরনের সুপারিশ সংযুক্ত করে থাকেন, সেটি বিধিবহির্ভূত এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় বা সুপারিশ বিবেচনায় নেওয়া হবে না।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুমারি কার্যক্রমে নিয়োগপ্রাপ্তদের নির্বাচন করা হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায়। প্রার্থীর অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা, দক্ষতা এবং সরকারি নীতিমালার শর্ত পূরণই হবে নিয়োগের একমাত্র ভিত্তি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো সুপারিশপত্র বা রাজনৈতিক পরিচয় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

জাতীয়

সারাদেশ

আরও পড়ুন