• ঢাকা
  • রবিবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , রাত ০৮:৫৪
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

মধুমতী নদী শাসন নয়, প্রাকৃতিক গতিপথে প্রবাহ চায় আলফাডাঙ্গার বাসিন্দারা

রিপোর্টার : স্টাফ রিপোর্টার
মধুমতী নদী শাসন নয়, প্রাকৃতিক গতিপথে প্রবাহ চায় আলফাডাঙ্গার বাসিন্দারা প্রিন্ট ভিউ

স্টাফ রিপোর্টার: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরখোলাবাড়ীয়া ও চরমাকড়াইল এলাকার দক্ষিণ সীমানায় মধুমতী নদী শাসন না করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, নদী শাসন বা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে আলফাডাঙ্গা অংশে নতুন করে ভাঙন দেখা দিতে পারে। এতে ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়বে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) নদীর তীরবর্তী এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয়রা এ দাবি জানান। এ সময় ‘আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরখোলাবাড়ীয়া মৌজার দক্ষিণ সীমানায় নদী শাসন প্রতিরোধ প্রসঙ্গে’ লেখা ব্যানার নিয়ে তারা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মধুমতী নদী তার নিজস্ব প্রাকৃতিক গতিপথে প্রবাহিত হলে নদীর পানি ও স্রোত স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে। কিন্তু নদী শাসনের নামে বাঁধ, ব্লক বা অন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণ করে পানির গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা হলে এর প্রভাব পড়তে পারে নদীর অপর পাড় ও আশপাশের এলাকায়।

এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমাদের জমি এমনিতেই ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে। এখনো আমরা ভাঙনের হুমকির মধ্যে রয়েছি। নদী শাসন করে যদি স্রোতের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়, তাহলে আমাদের এই অংশে আরও বেশি ভাঙন শুরু হতে পারে।

আরেক বাসিন্দা বলেন, আমরা নদী শাসন চাই না। মধুমতী নদী যেভাবে প্রাকৃতিক নিয়মে প্রবাহিত হচ্ছে, সেভাবেই চলুক। নদীকে জোর করে আটকে বা গতিপথ পরিবর্তন করে কোনো স্থাপনা করা হলে তার খেসারত আমাদের দিতে হতে পারে।

স্থানীয় কৃষক আলম হাদীর আশঙ্কা, চরমাকড়াইল, ও চরখোলাবাড়ীয়া এলাকায় নদী শাসনের ফলে একদিকে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে, অন্যদিকে নদীর স্রোত ঘুরে আলফাডাঙ্গার অংশে আঘাত হানতে পারে। এতে নতুন করে ফসলি জমি ও বসতভিটা ভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এক কৃষক জামাল বলেন, আমরা নদীভাঙন চাই না, আবার নদী শাসনের কারণে নতুন ভাঙনও চাই না। কোনো প্রকল্প নেওয়ার আগে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও পানির স্রোত কোন দিকে যায়, সেটা ভালোভাবে পরীক্ষা করা দরকার।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল শেখের ভাষ্য, এক জায়গা রক্ষা করতে গিয়ে অন্য জায়গা ভাঙনের মুখে পড়ুক-এটা আমরা চাই না। মধুমতীকে তার প্রাকৃতিক গতিতে চলতে দিতে হবে। মানুষের বসতভিটা ও কৃষিজমি রক্ষায় অন্য কোনো কার্যকর ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

এলাকাবাসীর দাবি, নদী শাসনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন নদীর গতিপথ, স্রোতের প্রবাহ ও দুই তীরের ভৌগোলিক পরিস্থিতি নিয়ে কারিগরি সমীক্ষা করে। আলফাডাঙ্গা অংশে যাতে নতুন করে ভাঙন সৃষ্টি না হয় এবং স্থানীয় মানুষের বসতভিটা ও কৃষিজমি ঝুঁকিতে না পড়ে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জাতীয়

সারাদেশ

আরও পড়ুন