প্রিন্ট ভিউ
স্টাফ রিপোর্টার: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের চরখোলাবাড়ীয়া গ্রামে সরকারি সড়কের ইট তুলে নেওয়া ও আত্মসাতের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার চরবেলবানা এলাকায় মধুমতী নদীর তীরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে চরবেলবানা ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, চরবেলবানা এলাকার এম এ কুদ্দুসকে জড়িয়ে চরখোলাবাড়ীয়া গ্রামের সরকারি সড়কের ইট তুলে নেওয়া ও আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযোগটির সঙ্গে এম এ কুদ্দুসের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যাচাই-বাছাই ছাড়াই এমন সংবাদ প্রকাশের ফলে তার সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এম এ কুদ্দুস বলেন, চরখোলাবাড়ীয়া গ্রামের সরকারি রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। অথচ আমাকে জড়িয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে আমি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়েছি। প্রায় এক বছর ধরে আমি ওই এলাকায় যাই না। এরপরও একটি মহল আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের অসংগতি তুলে ধরবেন—এটাই আমরা প্রত্যাশা করি। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশের আগে ঘটনাটি সরেজমিনে যাচাই, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ এবং তথ্য-প্রমাণের সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, সরকারি রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার ঘটনায় আমি কোনোভাবেই জড়িত নই।
ভাঙনের মুখে রাস্তা, সরানো হয়েছে ইট
এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরখোলাবাড়ীয়া গ্রামের ইট বিছানো সড়কের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে মধুমতী নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। সড়কের অবশিষ্ট কিছু অংশও নদীর একেবারে কিনারায় অবস্থান করছে। যেকোনো সময় সেসব অংশও নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীভাঙনের কারণে সড়কের ইটগুলোও নদীতে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। এ অবস্থায় অনেকে নিজেদের বাড়ির সামনের অংশের ইট তুলে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখেন। পরে ওই ইট ব্যবহার করে পাশের জমির ওপর চলাচলের জন্য নতুন করে ইট বিছিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, রাস্তার ইট নদীর একেবারে কিনারায় চলে এসেছে। ভাঙন শুরু হলে ইটগুলোও নদীতে চলে যাবে। তাই অনেকে নিজেদের বাড়ির সামনের ইট তুলে নিরাপদে রেখেছেন। পরে সেগুলো দিয়েই চলাচলের রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।
আরেক বাসিন্দা বলেন, এখানে নদী প্রতিনিয়ত ভাঙছে। রাস্তার অনেকটাই নদীতে চলে গেছে। অবশিষ্ট ইটও যদি নদীতে চলে যায়, তাহলে মানুষের কোনো উপকার হবে না। তাই স্থানীয়রা ইট সরিয়ে ব্যবহারযোগ্য রাখার চেষ্টা করেছেন।
তবে সরকারি সড়কের ইট সরানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা নির্দেশনা ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের বক্তব্যও জানা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
‘অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক’
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথভাবে তদন্ত করে সত্যতা নিরূপণ করা উচিত। তারা এম এ কুদ্দুসকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানের দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, ব্যক্তিগত বিরোধ বা কারও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সত্য ও প্রমাণনির্ভর তথ্যের ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ হওয়া উচিত।
মানববন্ধন থেকে এম এ কুদ্দুসকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো পোস্ট প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে তথ্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়। তবে সরকারি সড়কের ইট সরানো ও পরবর্তীতে সেগুলো ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে প্রকৃত ঘটনা কী-তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের নথি, অনুমোদন ও বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।