• ঢাকা
  • শুক্রবার , ১৩ মার্চ ২০২৬ , রাত ১০:০১
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

আলফাডাঙ্গায় বোনের নির্যাতন ও অবৈধ তালাকের প্রতিবাদ করায় ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

রিপোর্টার : ইমরান মোল্লা
আলফাডাঙ্গায় বোনের নির্যাতন ও অবৈধ তালাকের প্রতিবাদ করায় ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন প্রিন্ট ভিউ

আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় বোনের ওপর নির্যাতন ও অবৈধ তালাকের প্রতিবাদ করায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। নির্যাতিত বোনের পক্ষে তার বড় ভাই মোঃ মোবারক মোল্লা এ সংবাদ সম্মেলন করেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় আলফাডাঙ্গা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের দলীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। মোবারক মোল্লা পৌরসভাধীন মিঠাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং পৌর শ্রমিক দলের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ও উপজেলা শ্রমিক দলের কার্যকরী সদস্য।

সংবাদ সম্মেলনে মোবারক মোল্লা জানান, তার ছোট বোন মোসা. লিমা খানমকে ২০১৩ সালে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বিয়ে করেন পৌরসভার কুসুমদী গ্রামের মোঃ মাসুদ পারভেজ, যিনি মোঃ মানোয়ার খান মুন্নুর ছেলে। বিয়ের পর থেকেই লিমা খানমকে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবাদ করলে তাদের পরিবারের সদস্যদেরও নির্যাতন করা হয়। এমনকি লিমা খানম ও তার সন্তানদেরও একাধিকবার মারধর করা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতির আশায় ও বোনের সূখের কথা চিন্তা করে পরিবারের পক্ষ থেকে বসতবাড়ির দুই শতাংশ জমি বিক্রি করে বোনের স্বামী মাসুদ পারভেজ কে  সৌদি আরব পাঠানো হয়।

কিন্তু বিদেশে যাওয়ার পরও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর নির্যাতন চালাতে থাকে বলে অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে ভিডিও কলে মৌখিকভাবে তাকে তিন তালাক দেওয়া হয়। পরে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তালাকনামা সম্পন্ন করা হয় এবং ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি আলফাডাঙ্গা পৌর নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে একতরফাভাবে তিন তালাক কার্যকর করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, তালাক দেওয়ার পরও লিমা খানমকে মারধর করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় মাসুদ পারভেজ ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে মোবারক মোল্লাসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সমাধানের চেষ্টা করতে গিয়ে উপজেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি এসএম মাহমুদুল হাসান ইয়াদকে জড়িয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে এসএম মাহমুদুল হাসান ইয়াদ বলেন, “আমি আমার সংগঠনের ছোট ভাই মোবারকের বোনের বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে মানোয়ার খান মুন্নুর সঙ্গে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। তবে তিনি তাকে শারীরিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অনাকাঙ্ক্ষিত  ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতিত লিমা খানম ও তার সন্তানরা স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের বিচার দাবি করেন।

এ সময় মোবারক মোল্লা তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তার বোন ও ভাগ্নে-ভাগ্নির ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।

জাতীয়

সারাদেশ

আরও পড়ুন