• ঢাকা
  • বৃহঃস্পতিবার , ১১ জুন ২০২৬ , রাত ০৩:১০
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

খাল পুনঃখননের নামে শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ- বোয়ালমারীতে তদন্ত কমিটি গঠন, জব্দ ৫৫টি গাছের গুঁড়ি

রিপোর্টার : শারমিন আক্তার
খাল পুনঃখননের নামে শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ- বোয়ালমারীতে তদন্ত কমিটি গঠন, জব্দ ৫৫টি গাছের গুঁড়ি প্রিন্ট ভিউ

স্টাফ রিপোর্টার : ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় খাল পুনঃখননের নামে বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের শতাধিক গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) আহ্বায়ক করে চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন।

জানা গেছে, আগামী শনিবার (২৩ মে) এর মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কতটি গাছ কাটা হয়েছে, কীভাবে গাছ অপসারণ করা হয়েছে এবং কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের নদীয়ারচাঁদ এলাকার ‘মধুমতি নদী থেকে কামারগ্রাম স্লুইসগেট পর্যন্ত’ প্রায় দুই কিলোমিটার খালের পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই খনন কাজের আড়ালে বন বিভাগের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা প্রায় ১৩ বছর বয়সী এক শতাধিক মেহগনি, রেন্টি, শিশু ও আকাশমনি গাছ গত সপ্তাহে কেটে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, খাল খননের অজুহাতে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে গাছগুলো কেটে লোপাট করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই খালের দক্ষিণ পাড় থেকে অন্তত এক শতাধিক গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি গাছ কাটার পর তা বন বিভাগের জিম্মায় দেওয়ার কথা থাকলেও সেই নিয়মও মানা হয়নি।

জানা যায়, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ফরিদপুর বন বিভাগের উদ্যোগে গুনবহা ইউনিয়নের তালতলা থেকে ভেন্নাতলা বাজার পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার নানা প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়েছিল সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায়। দীর্ঘদিনে এসব গাছ খালের দুই পাড়জুড়ে একটি সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলে। বর্তমানে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বোয়ালমারীতে তিনটি খাল পুনঃখননের কাজ চলছে। এর মধ্যে নদীয়ারচাঁদ খালের গাছ কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘খাল কাটার নামে বৃক্ষ নিধন’ শিরোনামে ভিডিও ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পরে রোববার (১৭ মে) রাত ১০টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান এর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সামাজিক বনায়ন কমিটির সভাপতি ও নদেরচাঁদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হেমায়েত উদ্দিন এর বাড়ি থেকে কেটে রাখা অন্তত ৫৫টি গাছের কাণ্ড ও গুঁড়ি জব্দ করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে তিনি দাবি করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে এবং রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। তিনি এ কর্মলান্ডের সাথে জড়িত না বলে জানান।

উপজেলা বন কর্মকর্তা দ্বীন মোহাম্মদ মোল্লা বলেন, খাল ও খালপাড়ের গাছ পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ক্ষেত্রে খনন কাজের সুবিধার্থে গাছ অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে, তবে নিয়মের বাইরে কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও জানান, গাছ কাটার জন্য বন বিভাগ থেকে কাউকে কোনো ধরনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে গাছে কান্ড বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করে উপজেলা বন বিভাগের কার্যালয়ে রাখা হয়েছে।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রাকিবুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে কোনো গাছ কাটা হলে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি জমির গাছ কেউ ব্যক্তিগতভাবে নিতে পারবে না। নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বন বিভাগের অনুমোদন ছাড়া কোনো গাছ কাটার সুযোগ নেই। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাতীয়

সারাদেশ

আরও পড়ুন