প্রিন্ট ভিউ
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের নদীয়ারচাঁদ খালপাড় এলাকায় সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় লাগানো গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ফরেস্টার দ্বীন মুহাম্মদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কর্তনকৃত গাছের বেশিরভাগ অংশ বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অল্প কিছু গাছ উদ্ধার দেখানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীয়ারচাঁদ খাল খননের অজুহাতে কয়েকদিন ধরে খালপাড়ের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হয়। পরে এসব গাছের বড় বড় কাণ্ড দ্রুত বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় উপজেলা বন বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে উপজেলা ফরেস্টার দ্বীন মুহাম্মদ নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন। তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামকে দায়ী করেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে গাছ কাটার ঘটনায় তদন্তে নামে প্রশাসন। শনিবার বেলা ১১টার দিকে নদীয়ারচাঁদ খালপাড় এলাকায় তদন্ত কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শনে আসে। এসময় বিভিন্ন ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেন তদন্ত কমিটি।
তদন্তকালে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার নামে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম করে আসছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় রাতের আঁধারে গাছের কাণ্ড বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন পক্ষের লিখিত আকারে বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। আরও যাচাই-বাছাই শেষে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। পরে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা ফরেস্টার দ্বীন মুহাম্মদ আলী বলেন, বিষয়টি এখন তদন্ত কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্তে আমি দোষী প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটিই মেনে নেব।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সামাজিক বনায়নের গাছ জনগণের সম্পদ। এসব গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।