প্রিন্ট ভিউ
স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে গিয়ে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পূর্বশত্রুতার জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। অভিযুক্ত করা হয়েছে সিদ্দিক শরীফ ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ঈদের নামাজ শেষে মোনাজাত চলাকালীন সময়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে উপস্থিত মুসল্লিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সারন্দী গ্রামের নতুন ঈদগাহে প্রথমে সিদ্দিক শরীফ ও তার অনুসারীরা নামাজ আদায় করে চলে যায়। পরে একই গ্রামের ওবায়দুর শরীফের নেতৃত্বে অন্য মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে গেলে, নামাজ শেষে মোনাজাতের সময় সিদ্দিকের লোকজন হামলা চালায়।
অভিযোগ রয়েছে, হামলার পর সিদ্দিক ও মহাসীনের অনুসারীরা ওবায়দুর শরীফ ও মোশাররফ শরীফের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এতে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
ঘটনার পর রজ্জব আলী বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করে বোয়ালমারী থানায় মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-৩০)।
ভুক্তভোগী শাহআলম শরীফ বলেন, ২০০৭ সালে আমার চাচা হবিবুর রহমান হবিকে সিদ্দিক ও তার লোকজন হত্যা করে। তখন স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হলেও তারা শর্ত মানেনি। আমরা চুপ ছিলাম। কিন্তু ঈদের দিন নামাজে এসে আমাদের ওপর এমন হামলা চালাবে—এটা ভাবিনি।
ওবায়দুর শরীফ বলেন, আমাদের লোকজনকে বিনা কারণে মারধর করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
মোশাররফ শরীফ জানান, নামাজ আদায় করতে গিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমরা আইনের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি চাই।
অভিযুক্ত সিদ্দিক শরীফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ছেলেপেলে না বুঝে এসব করেছে। তারা আমাদের আত্মীয়। পরে আমি তাদের থামিয়েছি। আমি নিজে কাউকে মারিনি। এখন শুনছি আমার নামে মামলা হয়েছে, তাই আত্মগোপনে আছি।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুইজন আসামিকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।