• ঢাকা
  • শনিবার , ২৮ মার্চ ২০২৬ , রাত ০৮:১৮
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

বোয়ালমারীতে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে ভাইয়ের গুলিতে ভাই নিহত

রিপোর্টার : এস এম রুবেল
বোয়ালমারীতে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে ভাইয়ের গুলিতে ভাই নিহত প্রিন্ট ভিউ

স্টাফ রিপোর্টার : ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পৈত্রিক জমির গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বড় ভাইয়ের গুলিতে ছোট ভাই নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চতুল উত্তরপাড়া গ্রামে রেলগেট এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত হুমায়ুন কবীর মিন্টু (৪০) ওই গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চতুল উত্তরপাড়া গ্রামের কাওছার শেখের বাড়ির পাশের প্রায় ৪০ শতাংশ পৈত্রিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল দুই ভাই ডা. গোলাম কবীর ও হুমায়ুন কবীর মিন্টুর মধ্যে। এর মধ্যে ৭ শতাংশ জমি কাওছার শেখের নামে লিখে দিলেও বাকি জমির মেহেগুনী ও কড়াই গাছ সম্প্রতি প্রায় ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন বড় ভাই গোলাম কবীর। তবে ওই গাছগুলো তার ছোট ভাই মিন্টু নিজ হাতে লাগিয়েছিলেন বলে পরিবার দাবি করেছে।

বুধবার সকালে গাছ কাটতে গেলে হুমায়ুন কবীর মিন্টু বাধা দেন। এ সময় দুই ভাইয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে গোলাম কবীর বাড়ি থেকে তার লাইসেন্সকৃত শর্টগান এনে ঘটনাস্থলে এলোপাতাড়ি গুলি করেন। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন মিন্টু। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী বিলায়েত হোসেন মৃধা জানান, গুলির শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখেন গোলাম কবীর তার ছোট ভাইকে গুলি করে পালানোর চেষ্টা করছেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে ধাওয়া করে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

নিহতের ভাই আলমগীর কবীর বলেন, আমার সামনেই বড় ভাই ডা. গোলাম কবীর ছোট ভাই হুমায়ুন কবীর মিন্টুকে গুলি করে হত্যা করেছে। সামান্য গাছ নিয়ে এমন ঘটনা কখনো ভাবিনি।

নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম স্বামীর মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বলেন, আমার স্বামীই ছিল সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী। এখন আমি আর আমার ছোট মেয়েকে নিয়ে কিভাবে চলবো? আমাদের দেখার কেউ রইলো না।

তিনি অভিযোগ করেন, গোলাম কবীর জোরপূর্বক গাছ বিক্রি করে দেন এবং বাধা দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র এনে গুলি করেন। তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত পূর্ব থেকেই অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের হুমকি দিতেন এবং এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলাফেরা করতেন।

নিহতের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে ফাবিহা কবীর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, আমার বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এখন এতিম হয়ে গেলাম। আমার পড়াশোনা কীভাবে চালাবো? আমি খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

অভিযুক্ত ডা. গোলাম কবীর ফরিদপুর জেলা কৃষকলীগের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, তার বড় স্ত্রীর আত্মীয় ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ প্রভাব বিস্তার করে তিনি এলাকায় দাপটের সঙ্গে চলাফেরা করতেন। তাদের দাবি, পূর্বেও তিনি শর্টগান দিয়ে হুমকি দিতেন। এমনকি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বোয়ালমারী চৌরাস্তায় খান প্লাজা নামের একটি মার্কেটের মালিক সালমা বেগমকে লক্ষ্য করে গুলি করার চেষ্টা করলে পুলিশ তার শর্টগান ও গুলি জব্দ করেছিল।

পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার সময় তিনি অস্ত্রটি ফেরত পান। পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্র ফিরে পাওয়ার পর তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং শেষ পর্যন্ত এ হত্যাকাণ্ড ঘটান।

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, অভিযুক্ত গোলাম কবীর ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত শর্টগান ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিহতের লাশটি পোস্টমর্টেম করতে ফরিদপুর হাসপালাতে প্রেরণ করা হয়।

মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজম খান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জমির গাছ কাটাকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একটি তুচ্ছ বিরোধের জেরে ভাইয়ের হাতে ভাইয়ের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছে নিহতের পরিবার—একদিকে স্বামীহারা স্ত্রী, অন্যদিকে বাবাহারা একটি স্কুলপড়ুয়া মেয়ে।


জাতীয়

সারাদেশ

মৃত্যু

আরও পড়ুন