প্রিন্ট ভিউ
স্টাফ রিপোর্টার: ছেলেকে দেখতে ও পারিবারিক একটি শালিসে অংশ নিতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় চায়না পারভীন (৪২) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। তিনি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের রাখালগাছি গ্রামের বাসিন্দা এবং পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) চান মিয়ার স্ত্রী। একই দুর্ঘটনায় এসআই চান মিয়া ও তার ছোট ভাই বকুল মিয়া গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ব্যাসপুর মধ্যপাড়া মাদ্রাসার সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চায়না পারভীন তার স্বামী চান মিয়া এবং দেবর বকুল মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে একটি ডিসকভার মোটরসাইকেলে করে ভাঙ্গা উপজেলার দিকে যাচ্ছিলেন। সেখানে তাদের বড় ছেলে নাহিদ হোসেন শাকিলের শ্বশুরবাড়িতে পারিবারিক একটি শালিস অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। পথে ব্যাসপুর এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে আসা ইটবোঝাই একটি থ্রিহুইলার মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
সংঘর্ষের পর মোটরসাইকেলে থাকা তিনজনই সড়কে ছিটকে পড়েন। এ সময় থ্রিহুইলারের চাকা চায়না পারভীনের মাথার ওপর দিয়ে চলে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। অপরদিকে এসআই চান মিয়া ও বকুল মিয়ার হাতের ওপর দিয়ে থ্রিহুইলারের চাকা উঠে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর চায়না পারভীনের সঙ্গে থাকা প্রায় ১ লাখ টাকা, একটি স্বর্ণের চেইন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ১০-১৫টি চাবি খোয়া গেছে। তাদের দাবি, দুর্ঘটনার পর সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সুযোগে কে বা কারা এসব নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
নিহতের স্বজনরা আরও জানান, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করা এবং ছেলের পারিবারিক বিষয় নিয়ে আয়োজিত শালিসে অংশ নিতেই তারা বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান চায়না পারভীন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহতের জানাজার নামাজ নিজ গ্রাম রাখালগাছিতে অনুষ্ঠিত হবে। পরে গ্রামের মাদ্রাসা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাটি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার এলাকায় ঘটেছে। তাই এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা কাশিয়ানী থানা পুলিশ গ্রহণ করছে।