প্রিন্ট ভিউ
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি ঃ ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও এর আশেপাশের এলাকায় গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্কের ব্যাপক সমস্যা। নেটওয়ার্ক সমস্যায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবাসহ অন্যান্য কাজকর্ম। এ সমস্যা সমাধানের জন্য একজন বেসরকারি স্বাস্থ্যকর্মী গ্রামীণফোন, বিটিআরসিসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন, যেখানে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ সকল ডাক্তার, নার্স, ক্লিনিক মালিক, দোকানদারগনসহ শতাধিক ব্যক্তি স্বাক্ষর করেছেন। গ্রামীণফোনের কর্তারা পরিদর্শন করে সমস্যা পেলেও কোনও সমাধান করছে না।
দীর্ঘদিন ধরে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, হাসপাতাল গেট, বিশেষ করে সরকারি কলেজ থেকে হাসপাতাল রোড হয়ে রেল স্টেশন পর্যন্ত গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক সমস্যা রয়েছে। হাসপাতালের ভিতরে বিভিন্ন কক্ষে, জরুরি বিভাগে মোটেই নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়না। ফোন করেও অনেক সময় কল স্থাপন করা যায়না। আবার কথা চলার সময় কল ড্রপ হয়ে যায়। ফোন বন্ধ বা বিজি দেখায়। ইন্টানেটে কোনও কাজই করা যায়না। জরুরি চিঠিপত্র গ্রহণ বা প্রেরণে সমস্যা হয়। অনলাইনে মিটিং করা যায় না। নেটওয়ার্কের সমস্যা সমাধানের জন্য হাসপাতাল গেটের “মীম ডায়াগনস্টিক সেন্টারের” মার্কেটিং অফিসার মো. দাউদ হোসেন গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর গত ২৫ জুন লিখিত আবেদন করেন। পরে শতাধিক লোকের গণস্বাক্ষরসহ গ্রামীণফোনে ২৬ জুলাই পুনরায় আবেদন করেন। যেখানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, সকল ডাক্তার, নার্স, হাসপাতাল রোডের ক্লিনিক ও দোকান মালিকগণ স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়াও বিটিআরসির চেয়ারম্যান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরও লিখিত আবেদন করেছেন দাউদ হোসেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে গ্রামীণফোনের কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নেটওয়ার্ক সমস্যা দেখতে পান। তাঁরা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও দীর্ঘদিনে কোন সমাধান হচ্ছেনা।
গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক সমস্যার টেকসই সমাধানের আবেদনকারী মো. দাউদ হোসেন বলেন, আমি একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মার্কেটিং অফিসারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন প্রকার স্বাস্থ্যসেবা (ইনজেকশন ও সেলাইন দেওয়া, ক্যানোলা পরানো, প্লাস্টার দেওয়া ও প্লাস্টার খোলা ইত্যাদি) প্রদান করে থাকি। কিন্তু হাসপাতাল এলাকায় থাকলে সময়মতো অনেকেই আমাকে ফোনে পায়না। আমার নম্বরে কল করলে ফোন বন্ধ (সুইচড অফ) দেখায়, কল সংযোগ স্থাপন হয়না বা বাববার ব্যর্থ হয়, কল ড্রপ হয়, কন্ঠস্বরও অস্পষ্ট থাকে, এক পক্ষের কথা শোনাসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়। হাসপাতাল, জরুরি বিভাগ, হাসপাতাল রোড, সরকারি কলেজ থেকে রেল স্টেশন পর্যন্ত নেটওয়ার্কের সমস্যা বিরাজওমান। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় চৌরাস্তায় অবস্থিত গ্রামীণফোনের টাওয়ারকে শক্তিশালী করা অথবা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় নতুন টাওয়ার স্থপন করা হোক।
হাসপাতাল গেটের “মীর ফার্মেসীর” মালিক এবং ফার্মেসী মালিক সমিতির সভাপতি সৈয়দ মাজেদ আলী বলেন, অনেকদিন ধরেই হানপাতাল এলাকায় গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক সমস্যা রয়েছে। নেটওয়ার্ক সমস্যায় আমাদের ব্যবসা বানিজ্যের ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি ওষুধপত্র পাওয়ার জন্য কোম্পানীর সাথে বা কোম্পানীর প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগে বিঘœ ঘটে। আবার কাস্টমাররাও অনেক সময় যোগাযোগ করতে পারেনা। “আল আমিন সার্জিক্যাল ক্লিনিকের” মালিক মো. মোতাহার হোসেন ও “মীম ডায়াগনস্টিক সেন্টারের” মালিক মাসুদ রানা নেটওয়ার্ক সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, অনেক জরুরি কাজ যোগাযোগে বিঘœ ঘটায় সময়মতো করতে পারিনা। অনলাইনে রিপোর্ট আদান প্রদানে সমস্যা হয়। অন্যান্য ফোন কোম্পানীরও সমস্যা আছে কিন্তু গ্রামীণফোনের গ্রাহক বেশি এবং আমরা অধিকাংশই গ্রামীণফোনের সিম ও নেট ব্যবহার করি। তাই গ্রামীণফোনের সমস্যা বেশি অনুভব করি। দ্রæত এ সমস্যার সমাধান চান তাঁরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, আমার হাসপাতালের ভিতরে বিশেষ করে নিচ তলা ও জরুরি বিভাগে মোটেই নেটওয়ার্ক থাকেনা। নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে ইন্টারনেটে কাজ করা যায়না। ভয়েস কল, ভিডিও কলে কথা বলা যায়না। জুম মিটিং বা অনলাইনে মিটিং করতে সমস্যা হয়। ইমেইল পাঠানা, ডাউনলোড করা বা পড়তে সমস্যা হয়। জরুরি ডাক্তার কল করা বা জরুরিভাবে এ্যাম্বুলেন্সের খোঁজ নেওয়া যায় না। গ্রামীণফোনের প্রতিনিধিরা এসে সমস্যা দেখতে পেয়েছে কিন্তু তারা (গ্রামীণফোন) কোন কোন সমাধান করছে না। অতি দ্রæত গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধান চান তিনি।
গ্রামীণফোনের ফরিদপুরের ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ার প্রান্ত কুমার বিশ্বাস বলেন, আমাদের টিম সরেজমিনে গিয়ে সমস্যা দেখতে পেয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকা ও এর আশেপাশে নেটওয়ার্কের সমস্যা আছে। বিষয়টি নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে তবে একটু সময় লাগবে। ধাপে দাপে কাজগুলি হয় তাই সময় লাগতেছে।