প্রিন্ট ভিউ
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সূর্যোগ বাজারে গ্রামীণ মেলার নামে দোকানিদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে গভীর রাত পর্যন্ত। মেলায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন দোকানি।
দোকানিরা জানান, মেলা কমিটির পক্ষ থেকে মাইকিং করে দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীদের দোকান নিয়ে আসতে বলা হয়। সেই আশ্বাসে তারা মেলায় এলেও বেচাকেনা আশানুরূপ না হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন। এর মধ্যে দোকানপ্রতি টাকা নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। তবে প্রকাশ্যে ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি অধিকাংশ দোকানি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কসমেটিকস ব্যবসায়ী বলেন, অনেক দূর থেকে মেলা কমিটি খবর দিয়ে দোকান আনতে বলেছে। এখন এসে বিপদে পড়েছি। লাভ তো দূরের কথা, লোকসান গুনতে হবে।
আরেক বাদাম বিক্রেতা বলেন, আমি বাদাম বিক্রি করেছি। আমার কাছ থেকেও ১৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে। আরেকজন বলেন আমার নিকট থেকে ২০ টাকা নেয়া হয়েছে।
মেলার সাধারণ সম্পাদক ও রূপাপাত ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পিকুল মোল্যার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মেলার অনুমতির বিষয়ে তিনি বলেন, মেলায় আবার কিসের অনুমতি নিতে হবে? অনুমতি কি আপনার কাছ থেকে নেব? প্রশাসনের অনুমতি প্রয়োজন—এ কথা জানানো হলে তিনি বলেন, আমরা মেলা দেবো না কি দেব, তা কি আপনার কাছে জিজ্ঞেস করবো? আপনি যা পারেন করেন।
মেলার সভাপতি কামরুলের কাছে অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ডহরনগর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে মেলার অনুমতি নেওয়া হয়েছে। মেলা থেকে টাকা তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, মেলার খরচ আছে। ফাঁড়ির পুলিশসহ স্থানীয় মাতুব্বরদের মিষ্টি খাওয়ানোর জন্য টাকা তোলা হয়। ফাঁড়ির পুলিশ এসে মিষ্টি খেয়ে গেছে।
তবে ডহরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রেজাউল ইসলাম বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। আমরা মেলার অনুমতি দেবো কেন? আর যে এ মেলায় গিয়েছে, বিষয়টি আমি দেখছি।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মেলার জন্য প্রশাসনের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। আমরা থানা থেকে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, এ বিষয়ে কেউ অনুমতি নেয়নি। তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।