• ঢাকা
  • মঙ্গলবার , ২৮ এপ্রিল ২০২৬ , বিকাল ০৫:১৭
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

আলফাডাঙ্গায় উত্তেজনা প্রশমনে প্রশাসনের তৎপরতা- সংঘর্ষে না জড়াতে উভয় পক্ষকে কড়া বার্তা- এএসপি আজম খানের

রিপোর্টার : এস এম রুবেল
আলফাডাঙ্গায় উত্তেজনা প্রশমনে প্রশাসনের তৎপরতা- সংঘর্ষে না জড়াতে উভয় পক্ষকে কড়া বার্তা- এএসপি আজম খানের প্রিন্ট ভিউ

এসএম রুবেল : ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের চরভাটপাড়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে টানা সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছে প্রশাসন। এ অবস্থায় উভয় পক্ষের লোকজনকে আর কোনো ধরনের সহিংসতায় না জড়াতে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা-মধুখালি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আজম খান।


শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সরেজমিনে এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং উভয় পক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধ, গ্রাম্য দলাদলি বা মতপার্থক্য থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে একে অপরের ওপর হামলা চালানো, মাথায় আঘাত করা কিংবা বাড়িঘর ভাঙচুর করা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি সহিংসতায় জড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত না করে সবাইকে সংযমের পরিচয় দিতে হবে।

এএসপি আজম খান ধর্মীয় মূল্যবোধের দিকটিও তুলে ধরে বলেন, মানুষের ক্ষতি করলে মহান আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। তাই পারস্পরিক সহনশীলতা ও মানবিকতা বজায় রেখে চলাই একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।

গ্রামের সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়ে বলেন, অনেক সময় কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বা তথাকথিত মাতবর সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করে নিজেদের ফায়দা হাসিল করে। তারা কৌশলে বিভাজন সৃষ্টি করে এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়। এসব বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “গ্রামের মানুষকে নিজের বুদ্ধি দিয়ে ভালো-মন্দ বুঝতে হবে। ঐক্যবদ্ধ সমাজই একটি শক্তিশালী সমাজ।

উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল শুক্রবার ও ১৮ এপ্রিল শনিবার চরভাটপাড়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর, হামলা এবং আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

পরিদর্শনকালে এএসপি আজম খানের সঙ্গে ছিলেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শমীরসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকাবাসীও উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনের এই তৎপরতায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জাতীয়

সারাদেশ

আরও পড়ুন