• ঢাকা
  • শুক্রবার , ৩ জুলাই ২০২৬ , রাত ০১:১২
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

আলফাডাঙ্গায় পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

রিপোর্টার : ফরিদপুর প্রতিনিধি
আলফাডাঙ্গায় পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ প্রিন্ট ভিউ

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পূর্ব শত্রুতা ও গ্রাম্য বিরোধের জেরে সুমন শেখ (৩০) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় উকিল শেখের বাড়ির সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত সুমন শেখ ওই গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সুমন শেখ মোটরসাইকেলযোগে কাশিয়ানী যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিহতের পরিবারের দাবি, বড়ভাগ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে হোসাইন শেখের নেতৃত্বে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সুমনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সুমনের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হোসাইন শেখ ও তার পক্ষের লোকজনের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেন প্রতিপক্ষের পরিবার। শনিবারও কয়েকটি বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

শনিবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে সুমনের মরদেহ নিজ বাড়ি পূর্ব বড়ভাগ গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরে গোসল শেষে মাগরিবের পর জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এলাকায় আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিহতের মা শেফালী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের বিচার চাই। আমার বুক খালি করে দিয়েছে ওরা।

নিহতের বোন সরজনা (২৭) বলেন, আমার ভাই কারও সঙ্গে ঝগড়া করতো না। সে শুধু পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। আমার বাবা একজন কৃষক। অনেক কষ্ট করে আমাদের লেখাপড়া করিয়েছেন। ভাই বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু ওর সব স্বপ্ন শেষ করে দিল।

এ কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন সরজনা। বারবার ভাইয়ের কথা মনে করে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন তিনি।

নিহতের বড় বোন আলপনা বেগম বলেন, আমার ভাই কলেজে পড়তো। তাকে এভাবে দিনের বেলায় হত্যা করা হলো। আমি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

অন্যদিকে অভিযুক্ত কুদ্দুস শেখের স্ত্রী বলেন, আমার ছেলে হোসাইন ঘটনার সময় বাড়িতে ছিল না। কারা সুমনকে হত্যা করেছে আমরা জানি না। তবে শুনেছি তারা আমাদের পক্ষের লোক। কিন্তু এ হত্যার সঙ্গে আমরা জড়িত নই। তারপরও আমাদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর করা হচ্ছে। যারা প্রকৃত অপরাধী তাদের বিচার আমরাও চাই। নিরপরাধ মানুষের ক্ষতি না করার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মধুখালী-আলফাডাঙ্গা-বোয়ালমারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আজম খান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার হবে। কিন্তু একটি অপরাধের জবাবে আরেকটি অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাইজুর রহমান বলেন,সুমন শেখ নামে এক যুবককে দুর্বৃত্তরা রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।

জাতীয়

সারাদেশ

আরও পড়ুন