প্রিন্ট ভিউ
স্টাফ রিপোর্টার: পাট-পেঁয়াজের গুদামে আগুন, মুহূর্তেই পুড়ে ছাই কোটি টাকার পণ্য। ধারদেনা ও জমিজমা বিক্রি করে ব্যবসার জন্য গুদামে মজুত করেছিলেন পাট, পেঁয়াজ, রসুন, চালসহ বিভিন্ন মালামাল। কিন্তু ভয়াবহ আগুনে সব হারিয়ে এখন দিশেহারা ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ফলিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা। আগুনে নয়টি গুদাম পুড়ে গেছে। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ও ব্যবসায়ীরা।
শনিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফলিয়া বাজারের পাট ও পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মাসুদ মন্ডলের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের দোকান ও গুদামে। একপর্যায়ে পাট-পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্যে ভর্তি আটটি গুদাম পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনের তীব্রতায় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের পুঁজি ও স্বপ্ন মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত গুদামের মালিকেরা হলেন হাবিবুর রহমান হাবি মন্ডল (৪৫), ফিরোজ মেম্বার (৫৫), মাসুদ মন্ডল (৩৫), মিল্টন মোল্যা (৩০), জুয়েল মন্ডল (৩০) ও ইমরুল মোল্যা (৩৫), কালাম মোল্যা । তাঁদের গুদামে পাট, পেঁয়াজ, রসুন, চালসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল মজুত ছিল। স্থানীয়দের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি গুদামে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার পণ্য ছিল।
খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এর আগেই গুদামগুলোর অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. কিসলু খালাসী বলেন, “আমি তখন ফোনে কথা বলছিলাম। হঠাৎ বাজারের লোকজনের ছোটাছুটি ও চিৎকার শুনতে পাই। দোকান থেকে বের হয়ে দেখি, মাসুদ মন্ডলের পাটের গুদাম থেকে আগুন ও ধোঁয়া বের হচ্ছে। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিই। কিন্তু তারা আসার আগেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আটটি দোকানের সব মালামাল পুড়ে শেষ হয়ে যায়।”
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ফিরোজ মেম্বার বলেন, গুদামঘর বন্ধ করে বাড়িতে গিয়েছিলাম। আগুনের খবর শুনে এসে দেখি, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। ধারদেনা করে পাটের ব্যবসা করি। এখন সেই ব্যবসাটুকুও শেষ হয়ে গেল। সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা না পেলে আমরা পথে বসে যাব।
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মাসুদ মন্ডল বলেন, আমার গুদামে থাকা পাট, পেঁয়াজ ও রসুন পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। জমিজমা বিক্রি করে এবং ধারদেনা করে পণ্য কিনে গুদামে রেখেছিলাম। প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। এখন কীভাবে এই ক্ষতি সামাল দেব, বুঝতে পারছি না।
বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার রয়েল আহমেদ বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। পরিদর্শন শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
আলফাডাঙ্গা ফায়ার স্টেশনের স্টেশন মাস্টার ওবায়দুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পাটের গুদামে আগুন লাগলে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। পাশেই বারাশিয়া নদী থাকায় পানি সংগ্রহ করে আগুন নেভানোর কাজ চালানো হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
জেলা ফায়ারসার্ভিসের উপপরিচালক সোহেল রানা বলেন, খবর পেয়ে আমার বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা থেকে ৪ টি ইউনিট এসে আগুন নেভায়। প্রায় ১০ টি দোকানে আগুন লেগে পাট, পেঁয়াজ, চালসহ নানা রকমের মালামাল পুড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আগুনের সূত্র পাত শর্ট সার্কিট থেকে হতে পারে। তবে ক্ষতির পরিমান তদন্ত করে জানাতে পারবো।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সরকারি সহায়তা দেওয়া হলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর কিছুটা সুযোগ তৈরি হবে।