প্রিন্ট ভিউ
স্টাফ রিপোর্টার: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ব্র্যাক এনজিওর হিসাব কর্মকর্তা অলিপ বিশ্বাসের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার উপজেলার ময়েনদিয়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। চিরকুটে অনলাইন গেমের কথা উল্লেখ করে পরিবারের সদস্যদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
নিহত অলিপ বিশ্বাস মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার সোনাডাঙ্গা গ্রামের মিলন বিশ্বাসের ছেলে। তিনি বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের জয়পাশা এলাকায় ব্র্যাকের একটি শাখায় হিসাব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ১০ মাস আগে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। ময়েনদিয়ার শ্রীনগর এলাকার সীতানাথ সাহার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অলিপের সঙ্গে ওই বাড়িতে ব্র্যাকের আরেক কর্মী ভাড়া থাকতেন। ওই সহকর্মী ছুটিতে বাড়ি যাওয়ায় ঘটনার সময় অলিপ একাই ছিলেন। শনিবার সকালে সহকর্মী ফিরে এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় অলিপকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা লিপিকা সাহা বলেন, অলিপ ও আরেকজন তাঁদের বাড়ির পাশে সীতানাথ সাহার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তাঁদের একজন ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিলেন। সকালে ফিরে এসে দরজা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করেন। পরে স্থানীয়রা ঘরে প্রবেশ করে অলিপকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা তিনি জানেন না।
বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাইদুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে অলিপের মরদেহ উদ্ধারের সময় পাশে একটি চিরকুট পাওয়া যায়।
চিরকুটে লেখা ছিল
“আমার মৃত্যুর জন্য আমি দায়ী। online game কারনে আজ আমার জীবন দিতে হলো, বোন আমাকে মাপ করে দিছ। তোদের কথা না শোনার কারনে আজ আমার জীবন দিতে হলো। বাবা মার কথা খুব মনে পড়ছে।
আমি আমার জীবনের পরাজয় মেনে নিতে পারলাম না। তাই জীবন দিয়ে শেষ করলাম।”
পুলিশ জানায়, চিরকুটে অনলাইন গেমের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে অনলাইন গেম বা জুয়া তাঁর মৃত্যুর কারণ কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফরিদপুর ব্র্যাকের রিজিওনাল অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার জয়ন্ত হালদার বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে অলিপকে ঘরের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা তাঁরা বলতে পারছেন না। এ ঘটনায় তাঁরা শোকাহত।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।