প্রিন্ট ভিউ
স্টাফ রিপোর্টার: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার এক কৃষকের দীর্ঘদিনের কষ্টে গড়া স্বপ্ন মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেছে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে। গভীর রাতে আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে রান্নাঘর ও গোয়ালঘর। আগুনে পুড়ে মারা গেছে ২টি গরু, ৪টি ছাগল এবং ১৪টি হাঁস-মুরগি। এতে পরিবারটি এখন দিশেহারা ও নিঃস্ব।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার দাদপুর ইউনিয়ন এর দাদপুর চরপাড়া গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমানের বাড়িতে শুক্রবার গভীর রাতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। রাতের খাবার খেয়ে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর হঠাৎ আগুনের তাপে ঘুম ভাঙে তাদের। মুহূর্তেই দেখতে পান রান্নাঘর ও গোয়ালঘর দাউদাউ করে জ্বলছে।
ভুক্তভোগী কৃষক খলিলুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, রাত ১০টার দিকে সবকিছু দেখে ঘুমিয়ে পড়ি। হঠাৎ আগুনের তাপে ঘুম ভাঙে। উঠে দেখি আমার সব শেষ। চিৎকার করলে আশপাশের মানুষ ছুটে আসে, পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তার আগেই আমার রান্নাঘর আর গোয়ালঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
তার স্ত্রী মুন্নী বেগম বলেন, আমরা কৃষিকাজের পাশাপাশি গরু, ছাগল আর হাঁস-মুরগি পালন করে সংসার চালাই। আগুনে সব পুড়ে গেছে। কীভাবে আগুন লাগলো বুঝতেই পারছি না। আমাদের সংসারের একমাত্র সম্বল ছিল এগুলো। এখন আমরা একেবারে পথে বসে গেছি।
খলিলুর রহমানের ছেলে মনির শেখ, যিনি ঢাকায় ছোটখাটো ব্যবসা করেন, খবর পেয়ে বাড়িতে ছুটে আসেন। তিনি বলেন,
বাবার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল এই গবাদিপশুগুলো। সব আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গেল। পোড়া প্রাণীগুলো মাটিতে পুঁতে রাখতে হয়েছে। এই ক্ষতি আমাদের পরিবারের জন্য অপূরণীয়।
ঘটনার খবর পেয়ে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহসভাপতি ও ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, শনিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির বাড়িতে যান। তিনি পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে নগদ অর্থ ও বস্ত্র সহায়তা প্রদান করেন।
এ বিষয়ে এস এম রকিবুল হাসান বলেন,ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপজেলা অফিসে আসতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে সবাইকে আগুনের ব্যাপারে সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
স্থানীয়রা বলছেন, খলিলুর রহমানের পরিবারটি কৃষিকাজ ও গবাদিপশু পালনের ওপর নির্ভরশীল। এই আগুন শুধু তাদের ঘর নয়, তাদের স্বপ্ন, জীবিকা এবং ভবিষ্যতের আশাকেও পুড়িয়ে দিয়েছে। সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিরা পাশে দাঁড়ালে হয়তো আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন অসহায় এই কৃষক পরিবার।