প্রিন্ট ভিউ
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে কৃষিজমির ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে মাটি বহনকারী ট্রাক ও ট্রলির চাপায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে গ্রামীণ সড়ক। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক, পথচারী ও সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে রোববার দেখা যায়, উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়ন এর গোবিন্দপুর গ্রামে মো. সিদ্দিকুর রহমানের জমি থেকে বেকু (ভেকু) মেশিন দিয়ে দিনের পর দিন মাটি কাটা হচ্ছে। ওই মাটি ট্রাক্টর ও ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটা এবং ভরাট কাজে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত প্রায় পাঁচ দিন ধরে অব্যাহতভাবে এই মাটি কাটা চলছে এবং আরও অন্তত ১৫ দিন চলতে পারে। প্রতিদিন একাধিক ট্রাক ও ট্রলি গ্রামের ভেতরের ইটের সলিং রাস্তা ব্যবহার করে মাটি বহন করছে। এতে রাস্তাটি কোথাও উঁচু-নিচু হয়ে যাচ্ছে, কোথাও ভেঙে যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল আহাদ বলেন, এই রাস্তাটি দিয়ে প্রায় ১০ গ্রামের মানুষ কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া করে। ভারী ট্রাক ও ট্রলি চলাচলে রাস্তাটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কাজ শেষ করে মাটি ব্যবসায়ীরা চলে যাবে, কিন্তু দুর্ভোগ আমাদেরই পোহাতে হবে। আমরা বহুবার নিষেধ করেছি, কিন্তু কেউ শোনেনি।
আরেক কৃষক মাহবুব আলম বলেন, গ্রামের সরু রাস্তায় যেভাবে ট্রাক-ট্রলি চলছে, তাতে আমরা আতঙ্কে আছি। ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে নিয়ে সবসময় ভয় কাজ করছে। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ সরাসরি প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। কিছু কৃষক বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও কাজ বন্ধ হয়নি।
জমির মালিক মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মাটি নেওয়ার কারণে রাস্তায় কিছু ধুলাবালি হচ্ছে, কিছুটা নষ্টও হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ী জাকির পরে রাস্তা ঠিক করে দেবে। আমি মাটি বিক্রির বিষয়টি বিস্তারিত জানি না, ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে।
জমির মালিকের ছেলে শফিউল আলম মোবাইল ফোনে জানান, আমি ঢাকায় থাকি। জাকির নামে একজন পুকুর তৈরি করে দেবে বলে মাটি কাটছে। ওই জমিতে ফসল ভালো হয় না, তাই তাকে মাটি দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত মাটি ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, আমি এক লাখ টাকা দিয়ে মাটি কিনেছিলাম। পরে অন্য একজনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। এখন সে মাটি কাটছে।
এ বিষয়ে এস এম রকিবুল হাসান বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার করা না হলে কৃষিপণ্য পরিবহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দেবে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।