• ঢাকা
  • বুধবার , ২৬ আগস্ট ২০২৬ , রাত ১০:৩৯
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

কলকাতার হোটেলে আগুন: দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা সাংবাদিক দেবাশীষ আর ফিরলেন না

রিপোর্টার : স্টাফ রিপোর্টার
কলকাতার হোটেলে আগুন: দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা সাংবাদিক দেবাশীষ আর ফিরলেন না প্রিন্ট ভিউ

স্টাফ রিপোর্টার : আর দেশে ফেরা হলো না কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের। স্ত্রী, তিন বছরের শিশুসন্তান ও শ্বশুরকে নিয়ে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। বুধবারই তাঁদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ আগুন কেড়ে নিল একই পরিবারের চারটি প্রাণ।

নিহত দেবাশীষ দত্ত (৩৯) ‘আজকের পত্রিকা’ ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইন-এর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত ‘আজকের আলো’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত অন্যরা হলেন তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তিন বছরের ছেলে শর্ণশীষ দত্ত ও শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬০)।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ভারতে যান দেবাশীষ। পরে তাঁর শ্বশুরও সেখানে যান। বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা শেষে গত সোমবার রাতে তাঁরা কলকাতায় ফেরেন। নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন। পরদিনই দেশে ফেরার কথা ছিল তাঁদের।

কিন্তু সেই ফেরার দিনটি আর আসেনি।

মঙ্গলবার রাতে হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ নয়জনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন দেবাশীষ, তাঁর স্ত্রী, ছোট্ট সন্তান ও শ্বশুর।

‘আমার দেবা একটু পরই বাড়িতে আসবে...’

সকালে ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর যেন মুহূর্তেই ভেঙে পড়েন দেবাশীষের মা স্বপ্না দত্ত। যে ছেলে কয়েক ঘণ্টা পরই বাড়ি ফিরবে—সেই ছেলের নিথর দেহের খবরই শুনতে হলো তাঁকে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বারবার বলছিলেন, “আমার দেবা একটু পরই বাড়িতে আসবে। এত দেরি করছে কেন? রাতে বলেছিল, ব্যাগ গোছাচ্ছে। সকালেই রওনা দেবে বাড়ির উদ্দেশে।”

মায়ের সেই অপেক্ষা আর কোনোদিন শেষ হবে না। যে সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ঘরে ফেরার অপেক্ষা ছিল, সেই সন্তান ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে।

দেবাশীষের এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। সাত বছর বয়সী মেয়ে মহিমা দত্তকে দেশে রেখে স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন তিনি। এখন বাবাকে হারিয়ে ছোট্ট মহিমার জীবনে নেমে এসেছে এক অপূরণীয় শূন্যতা।

দেবাশীষের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার সকাল থেকেই তাঁর কুষ্টিয়ার বাড়িতে ভিড় করেন স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী সাংবাদিক ও প্রতিবেশীরা। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

একসঙ্গে পরিবারের চারজনকে হারানোর এই ঘটনায় শোকে স্তব্ধ স্বজনরা। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া একটি পরিবার যে আর কখনো একসঙ্গে দেশে ফিরবে না—এমন নির্মম পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না কেউই।

সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মর্মান্তিক মৃত্যুতে সহকর্মী সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহল গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে। তাঁর কর্মস্থল ‘আজকের পত্রিকা’ পরিবারও গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

জাতীয়

আন্তর্জাতিক

সারাদেশ

আরও পড়ুন